📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে সমান সুযোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৮.৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ৮০.৪ শতাংশ। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন স্তরে নারীদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে সমান সুযোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারীর অগ্রগতি শুধু শীর্ষ পদে পৌঁছানো নয়, বরং তাদের অনুসরণ করার সুযোগ এবং নেতৃত্বের ইতিবাচক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘ওমেন লিডারশিপ সেমিনারে’ তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৮.৬ শতাংশ** (পুরুষদের ৮০.৪ শতাংশ) — বাংলাদেশে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ খুবই কম
- 📌 **মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪.৯ শতাংশ, উচ্চমাধ্যমিকে ২২.৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে** — শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে
- 📌 **স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি** — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উদ্যোগ
- 📌 **প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী** — নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা উন্নতির উদ্যোগ
- 📌 **কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান** — আগামী অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শোরের অংশ হিসেবে ‘ওমেন লিডারশিপ সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০.৮ শতাংশ নারী। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিপুলসংখ্যক নারী অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব তাদের সম্ভাবনা বিকাশের পথে বড় বাধা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ৩৮.৬ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৮০.৪ শতাংশ।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪.৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২.৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হারও মাত্র ২০.৮ শতাংশ। তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
"শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।"
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও, দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান বলেন, একজন নারীর আয়, সঞ্চয় ও নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তার ব্যক্তিগত সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে তিনি বলেন, প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি নারী ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পারিবারিক দায়িত্ব কোনো নারীর ক্যারিয়ার ও পেশাগত অগ্রগতির পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী হয়ে উঠবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল), বাংলাদেশ ও মার্কিন দূতাবাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. জুবাইদা রহমান (জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: - নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ: ৩৮.৬ শতাংশ - পুরুষদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ: ৮০.৪ শতাংশ - মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া ছাত্রী: ৩৪.৯ শতাংশ - উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া ছাত্রী: ২২.৫ শতাংশ - উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ: ২০.৮ শতাংশ - স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মধ্যে নারী: ৮০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!