📌 বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো গভীর করার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো। এই তিন দিনের প্রদর্শনীর উদ্বোধনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তেল-গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। নারী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গভীর করার লক্ষ্যে ঢাকায় আড়াই বছরের বিরতি পর শুরু হয়েছে তিন দিনের ৩০তম ইউএস ট্রেড শো। এই প্রদর্শনীতে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, প্রসাধনী ও নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। এই আয়োজনটি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকার দূতাবাস যৌথভাবে করছে। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্য পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা)।
- 📌 স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তেল-গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
- 📌 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আওতায় ১৯টি সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সমন্বিত পরিবহন কেন্দ্র।
- 📌 ভোলায় সাত ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- 📌 নারী নেতৃত্ব নিয়ে সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
- 📌 শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৮.৬ শতাংশ, যেখানে জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী।
- 📌 মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী।
📰 বিস্তারিত
৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। স্পিকার বলেন, 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আওতায় ১৯টি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আশপাশে সমন্বিত পণ্য পরিবহনকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। তিনি তেল-গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, তাঁর দেশ দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহী।
প্রদর্শনী উদ্বোধনের পরপর দুপুরে নারী নেতৃত্ব নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আয়, সঞ্চয় ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। বাল্যবিবাহ, শিক্ষায় ঝরে পড়া ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নারীর অগ্রগতির পথে বড় বাধা। তিনি বলেন, নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
"নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারের মৌলিক চাহিদায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে পরিবার ও সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হয়।"
সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফরেন চেম্বারের সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী, ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাবা দৌলা, মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত ত্রিশিতা মাওলা, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং প্রমুখ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জুবাইদা রহমান, ফারজানা শারমীন, ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাণিজ্য), ৩৮.৬ শতাংশ (নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ), ১৯টি (সম্ভাবনাময় খাত), ১০ লাখ (কর্মসংস্থান লক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!