📌 ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ লন্ডনের আদালতে রায় ঘোষণা করা হয় যে তিনি কারাদণ্ডের শিকার হতে পারেন। পাঁচ নারী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ধর্ষণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অভিযোগ ছিল
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের জীবন ও ক্যারিয়ারের উত্থান ও পতন নাটকীয়ভাবে শেষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ডের শিকার হতে পারেন। দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রায় ঘোষণা করে যে, ব্র্যান্ডকে ধর্ষণের একটি এবং যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের আরও দুটি এবং ধর্ষণের চেষ্টার একটি অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি কারাদণ্ডের শিকার হতে পারেন।
- 📌 ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন বছর ধরে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ পাঁচ নারী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
- 📌 ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ছিল ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং মানসিক নির্যাতন।
- 📌 ব্র্যান্ডের উত্থান ছিল ব্রিটেনের টেলিভিশন ও হলিউডে তার জনপ্রিয়তা, কিন্তু তার পতন ঘটেছে তার উগ্র ব্যক্তিত্ব এবং নারীদের প্রতি আপত্তিকর আচরণের কারণে।
- 📌 ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ছিল কর্মীদের প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার, যৌন সম্পর্কের ব্যবস্থা এবং মানসিক নির্যাতন।
📰 বিস্তারিত
রাসেল ব্র্যান্ডের উত্থান ছিল যতটা দ্রুত, তার পতনও ততটা নাটকীয়। তিনি ব্রিটেনের টেলিভিশন, রেডিও এবং হলিউডে পরিচিত মুখ ছিলেন। তার জনপ্রিয়তার পুঁজি ছিল যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য, অশালীন কৌতুক এবং তার উগ্র ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সেই ব্যক্তিত্বের আড়ালে নারীদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জমা হয়েছিল। অবশেষে, পাঁচ নারী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। চ্যানেল ফোরের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘ডিসপ্যাচেস’ এবং দ্য টাইমস পত্রিকার যৌথ অনুসন্ধানে পাঁচ নারী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দিয়েছিলেন। এর দুদিন পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি এবং যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ধর্ষণের আরও দুটি এবং ধর্ষণের চেষ্টার একটি অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
ব্র্যান্ডের জীবনযাপন ছিল যতটা আলোচিত, তার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল যতটা বিতর্কিত। তিনি ১৯৭৫ সালের জুনে ইংল্যান্ডের এসেক্সের গ্রেইস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় যখন তিনি মাত্র ছয় মাস বয়সী ছিলেন। তিনি মা বারবারার কাছে বেড়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও মঞ্চের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। স্কুলের নাটক ‘বাগসি ম্যালোন’-এ ফ্যাট স্যামের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
বিশের দশকে স্ট্যান্ডআপ কমেডি দিয়ে ব্র্যান্ডের ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে মদ ও পরে হেরোইনে আসক্তির কারণে তাঁর পেশাগত জীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরদিন ওসামা বিন লাদেনের পোশাক পরে কর্মস্থলে হাজির হওয়ায় এমটিভির উপস্থাপকের চাকরিও হারান। ২০০২ সালে তারকা ব্যবস্থাপক জন নোয়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি মাদকাসক্তির চিকিৎসা নেন।
২০০৪ সালে পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর ব্র্যান্ড চ্যানেল ফোরের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর স্পিন-অফ অনুষ্ঠান ‘বিগ ব্রাদার’স বিগ মাউথ’-এর উপস্থাপক হন। এখান থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অনেকেই পরে তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন। একজন নারী কর্মী জানান, ব্র্যান্ড তাঁকে দর্শকদের মধ্য থেকে নারীদের খুঁজে এনে যৌন সম্পর্কের ব্যবস্থা করতে বলতেন। আরেক কর্মী অভিযোগ করেন, ব্র্যান্ড তাঁর ড্রেসিংরুমে নিজের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করেছিলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
"ব্র্যান্ড তাঁকে দর্শকদের মধ্য থেকে নারীদের খুঁজে এনে যৌন সম্পর্কের ব্যবস্থা করতে বলতেন। পরে ওই নারীদের কেউ কেউ কান্নাকাটি করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। নিজেকে তখন ‘যেন একজন দালাল’ মনে হতো বলে জানান ওই নারী কর্মী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, ইংল্যান্ড; হলিউড, যুক্তরাষ্ট্র; ইতালিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসেল ব্র্যান্ড, পাঁচ নারী অভিযোগকারী, জন নোয়েল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নভেম্বর (রায় ঘোষণা), ৯ নভেম্বর (সাজা ঘোষণা), ১৬ বছর (ইতালিয়া কন্টি থিয়েটার স্কুলে ভর্তি), ২০০ মাইল (পথ পাড়ি), ১১ সেপ্টেম্বর (ওসামা বিন লাদেনের পোশাক পরা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!