📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিয়াত্তরের নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ধ্বংসের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা উভয়েই নির্বাচন কারচুপি করে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। সেমিনারে বিরোধী দলের প্রতিনিধি মাহমুদা হাবীবা ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খানও নির্বাচনের অনিয়ম ও জুলাই সনদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছেন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিয়াত্তরের নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ধ্বংসের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। সেমিনারে তিনি দাবি করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনা থাকলেও তিনি ভোটে কারচুপি করে নির্বাচন জিতেছিলেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা জানতেন যে, ফেয়ার ইলেকশনে তিনি হারবেন, তাই তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনা থাকলেও তিনি কারচুপি করে জয়লাভ করেছিলেন।
- 📌 শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী ভূমিকা সত্ত্বেও, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন বলে দাবি করেছেন উপদেষ্টা।
- 📌 মাহমুদা হাবীবা অভিযোগ করেছেন, বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদকে নির্বাচনের আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবকে জয়ী করা হয়েছিল।
- 📌 আবু সাঈদ খান বলেছেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে দিয়ে সরকারে যুক্ত হন এবং সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রথম পরীক্ষা জাতীয় নির্বাচনে ব্যর্থতা দেখা যায়।
- 📌 সেমিনারে জুলাই সনদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাহমুদা হাবীবা দাবি করেছেন, সনদ স্বাক্ষরের সময় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা হয়নি এবং তা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সংসদকে বেঁধে দিতে চেয়েছিল।
- 📌 এহ্সান মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনের অনিয়ম ও তথ্য গোপনের ঘটনাগুলো আলোচনায় তুলে ধরেছেন।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে তাদের অধিকারকেই অস্বীকার করা। তিনি বলেন, ‘তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। তবু তিনি ভোটে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, এমন একটি বিরোধী দল তার সামনে আছে, যাদের সঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন করলে তিনি হারবেন। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।’
সেমিনারে আলোচক ও জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা দাবি করেছেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তার কারণেই তাঁর সরকার গঠন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে জেতাতে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদকে নির্বাচনের আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবকে জয়ী করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষের অবদানকে আওয়ামী লীগ একচ্ছত্রভাবে নিজেদের বলে দাবি করেছে। তিয়াত্তরের নির্বাচনেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।
আবু সাঈদ খান বলেছেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে দিয়ে সরকারে যুক্ত হন। পরে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা জাতীয় নির্বাচনে ব্যর্থতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ বিরোধী দল ছাড়া গঠিত হয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক। সাঈদ খান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেননি—এমন যুক্তি দেওয়া হলেও নিজ দলের লোকজনের অপকর্ম ঠেকাতে না পারা এবং দলের লাগাম টেনে ধরতে না পারা তাঁর ব্যর্থতা।
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ। তিনি বলেন, জাদুঘর এমন একটি পরিসর তৈরি করতে চায়, যেখানে ভিন্নমতের মানুষ একই মঞ্চে নিজেদের কথা তুলে ধরবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনের অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিভিন্ন ঘটনাও আলোচনায় তুলে ধরেছেন।
“তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। তবু তিনি ভোটে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, এমন একটি বিরোধী দল তার সামনে আছে, যাদের সঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন করলে তিনি হারবেন। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।” — ডা. জাহেদ উর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. জাহেদ উর রহমান, মাহমুদা হাবীবা, আবু সাঈদ খান, এহ্সান মাহমুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বাকেরগঞ্জ-৪ আসন (৪.০)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!