📌 লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন বাস এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্য নিথিয়া রামানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। একসময় রাজনৈতিক মিত্র থাকলেও এবার তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই করছেন। নির্বাচনে বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে উভয় প্রার্থীই বাংলাদেশিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে (৩ নভেম্বর) বর্তমান মেয়র কারেন বাস এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্য নিথিয়া রামানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। একসময় রাজনৈতিক মিত্র থাকলেও এবার তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই করছেন। নির্বাচন ঘিরে শহরের রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কারেন বাস দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরছেন, অন্যদিকে নিথিয়া রামান শহরের মৌলিক সেবা, আবাসন ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে (৩ নভেম্বর) কারেন বাস ও নিথিয়া রামান মুখোমুখি হয়েছে, উভয় প্রার্থীই বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।
- 📌 নির্বাচনী আলোচনায় বাড়িভাড়া ব্যয়, গৃহহীনতা, পুলিশের ভূমিকা, অবকাঠামো ও ২০২৮ অলিম্পিক আয়োজন — সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- 📌 কারেন বাসের প্রশাসন গৃহহীনতা মোকাবিলায় ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচি চালু করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
- 📌 ২০২৫ সালের প্যালিসেইডস দাবানলে কারেন বাসের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
- 📌 নিথিয়া রামান মৌলিক সেবা ও আবাসন সমস্যা মোকাবিলায় জোর দিচ্ছেন, যেখানে কারেন বাস প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার কথা বলছেন।
📰 বিস্তারিত
লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ এলাকায় বাংলাদেশি ভোটার ও কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে উভয় প্রার্থীর প্রচারশিবির। মতবিনিময় সভা, স্থানীয় নেতাদের সাক্ষাৎ এবং ভোটারদের কাছে সমর্থন চাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর সমর্থন প্রায় সমান দেখা গেছে, ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
কারেন বাসের পুরো নাম কারেন রুথ বাস। তিনি ১৯৫৩ সালের ৩ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয় কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে, পরে স্বাস্থ্যসেবা পেশায় যুক্ত হন। তিনি একজন ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি-ইউএসসি মেডিক্যাল সেন্টারে কাজ করেছেন। ১৯৯০ সালে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘কমিউনিটি কোয়ালিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি, যা মাদকাসক্তি, এইডস, অপরাধ ও সামাজিক বৈষম্যের সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে।
২০০৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন কারেন বাস। ২০০৮ সালে তিনি অ্যাসেম্বলির স্পিকার হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের মেয়র নির্বাচনে রিক কারুসোকে পরাজিত করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৩তম মেয়র নির্বাচিত হন তিনি — শহরটির প্রথম নারী ও দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই গৃহহীনতা নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন কারেন বাস। ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে হোটেল ও অস্থায়ী আবাসনে নেওয়া হয়েছে। তবে গৃহহীনতা মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসনের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টানা দুই বছর গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কমার পর ২০২৬ সালের সর্বশেষ হিসাবে সংখ্যা আবার বেড়েছে। ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় অস্থায়ী আবাসনে নেওয়া মানুষের অনেকেই পরবর্তীতে আবার রাস্তায় ফিরে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
"গৃহহীনতা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার জন্য আমরা ‘এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টিভ ১’ জারি করেছি। এতে ১০ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মিত হয়েছে এবং আরও ৫০ হাজার ইউনিট উন্নয়নপ্রক্রমায় রয়েছে।"
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্যালিসেইডস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে কারেন বাসের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দাবানল-পরবর্তী পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তা নিয়ে প্রশাসন প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাবেক ফায়ার চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলিকে বরখাস্ত করার ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করে, যিনি পরে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কারেন বাস (বর্তমান মেয়র), নিথিয়া রামান (সিটি কাউন্সিল সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর (নির্বাচন তারিখ), ১০ হাজার (আবাসন ইউনিট), ৫০ হাজার (উন্নয়নপ্রক্রমায় আবাসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!