📌 নাটোর জেলা বিএনপিতে শাকিল ইসলাম হত্যা ও এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কেন্দ্রকে অবহিত না করার কারণে আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ছয়জনকে নিয়ে সদস্যসচিব সংবাদ সম্মেলন করলেও আহ্বায়ক তার বিরোধিতা করেছেন
নাটোর জেলা বিএনপিতে শাকিল ইসলাম হত্যা ও সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল ভিডিও নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ না করার কারণে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির সদস্যরা দু’দলভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে সাংগঠনিক রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ করে জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ভিডিওর সত্যতা পরীক্ষার জন্য।
- 📌 আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ জানান, কেন্দ্রের নির্দেশ না পাওয়ার পর্যন্ত তিনি যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজের বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক রিপোর্ট পাঠাতে পারবেন না।
- 📌 জেলা কমিটিতে ৩৪ জন সদস্য থাকলেও সদস্যসচিব মাত্র ছয়জন সদস্যের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা কমিটির অনেককেই হতাশ করেছে।
- 📌 শাকিল হত্যায় অন্তত ১০ জন অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে, এর মধ্যে সাতজনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ চিঠি দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত ৩০ অক্টোবর নাটোর জেলা বিএনপি একটি বিশেষ সভা করে শাকিল ইসলাম হত্যা ও এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কেন্দ্রকে লিখিতভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পাঁচ দিন পরেও এই রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে জানান, আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের আপত্তির কারণে কেন্দ্রে কোনো রিপোর্ট পাঠানো সম্ভব হয়নি।
সভায় ১৮ জন সদস্য অংশ নেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, শাকিল হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করা হবে। এছাড়াও, এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে ভিডিও নিয়ে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে কেন্দ্রকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের বিরোধিতা থাকায় এই রিপোর্ট পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের নির্দেশ না পাওয়ার পর্যন্ত আমি যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজের বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক রিপোর্ট পাঠাতে পারবো না।”
সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ করে তিনি জানতে পারেন যে, কেন্দ্র ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে ভিডিওর সত্যতা পরীক্ষার জন্য। তিনি আরও বলেন, “তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি অবশ্যই শাস্তি পাবেন।”
শাকিল হত্যার ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অন্তত ১০ জন অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সাতজনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ চিঠি দিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সাতজন অবৈধ পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ইতিমধ্যে শাকিল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
"আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ১ নভেম্বর আহ্বায়ক জানিয়েছেন, তিনি গত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রে কোনো রিপোর্ট পাঠাবেন না। ফলে তাঁর আপত্তির কারণে শাকিল হত্যা ও এমপির ভাইরাল হওয়া ভিডিও সম্পর্কে সাংগঠনিক রিপোর্ট পাঠানো সম্ভব হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোর জেলা, গুরুদাসপুর পৌরসভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান, আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, এমপি আবদুল আজিজ, শাকিল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ জন (জেলা কমিটির সদস্য), ১৮ জন (সভায় অংশগ্রহণকারী), ১০ জন (হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী), ৭ জন (দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!