📌 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হচ্ছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, কালোটাকা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তরিত হচ্ছে। তিনি আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ 'ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে' রূপান্তরিত হচ্ছে বলে ইফতেখারুজ্জামান
- 📌 জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতার রাজনীতির অবসান, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়, স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা দেয়
- 📌 দলীয় নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের প্রাধান্য, তৃণমূল নেতৃত্বের ঘাটতি
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার দরকার বলে ইফতেখারুজ্জামান
📰 বিস্তারিত
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতার রাজনীতির চর্চার অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব এমনকি মানুষের প্রাণ দিতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এই অবস্থা আরও বেশি বিকশিত হচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতির কারণে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতির কারণে বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা যায়। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা এক ধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অর্থের ব্যবস্থাপনা অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিনির্ভর। ফলে স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা দেয়। দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি বিদ্যমান। আইন ও বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর চর্চারও অসামঞ্জস্য রয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের চর্চার সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্র সামঞ্জস্যহীন। অনেক ক্ষেত্রেই এই চর্চা অতি নিয়ন্ত্রণমূলক। অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কার্যকর পদ্ধতির অনুপস্থিতির কারণে আইনি শর্তভিত্তিক ব্যবস্থা অঙ্কুরেই অর্থনির্ভর প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করে।
"রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। নেতাদের নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হবে। সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ধানমন্ডি, টিআইবি কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০ (কোনো সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও উল্লেখ করা হয়েছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!