📌 পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বক্তব্য নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, রাতে সংঘর্ষে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে রাতের আঁধারে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন পথচারী ও বাকিগণ দলীয় কর্মী। পুলিশ ও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন ও পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১৫ জন আহত
- 📌 দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত থাকায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্য নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়
- 📌 রাতে মহাসড়কে দুই ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫) ও পঞ্চগড় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জীবন রায় (২২) সহ ১৫ জনের মধ্যে ৫ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে
- 📌 পুলিশ তদন্ত করছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম জানতে চেষ্টা করছে
📰 বিস্তারিত
গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার পর পঞ্চগড় জেলা শহরের ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন (এমআর) কলেজ মোড় এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে দুটি দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকেরা ডোকরোপাড়া-এমআর কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপি এমপি নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা মিঠাপুকুর-তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতে মারামারিতে আহত বেশ কয়েকজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। অনেকের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আহতদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আবদুল বাতেন, শামীম ইসলাম, সাক্ষর ও ময়নুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান বলেন, ‘দিনের বেলা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সামনে আমাদের একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে হট্টগোল হয়েছিল। এর প্রতিবাদে রাতে আমরা সবাই একত্রিত হলাম, কিন্তু কোনো স্লোগান দিইনি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মানিকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।’ অন্যদিকে মনিরুজ্জামান মানিক অভিযোগ করেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ মিছিল করছে। এ জন্য রাতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমরা কয়েকজন জড়ো হয়ে চা খেতে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে জানতে পারি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান আমাদের পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামীম ইসলামকে মারধর করেছেন। এরপর আমরা তাঁকে হাসপাতালে পাঠাই। এর মধ্যেই তারা আমাদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে।’
"দিনের বেলা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সামনে আমাদের একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে হট্টগোল হয়েছিল। এর প্রতিবাদে রাতে আমরা সবাই একত্রিত হলাম, কিন্তু কোনো স্লোগান দিইনি। এরপর আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।"
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম জানতে চেষ্টা করছি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পঞ্চগড় জেলা শহর, ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন কলেজ মোড়, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন (পঞ্চগড়-২ এমপি), নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১ এমপি), রোকনুজ্জামান জাপান (জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক), মনিরুজ্জামান মানিক, আসাদুল্লাহ আসাদ (বোদা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক), এ জেড এম জাহিদ হোসেন (সমাজকল্যাণ মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জন আহত, ২ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ, ৫ জনকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!