📌 কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রাতের অন্ধকারে নৌকায় করে ৩৯ বস্তা সার আটক করে স্থানীয় জনতা। প্রশাসন দায় নিতে অস্বীকার করলেও সারগুলো স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সার পাচারের পিছনে ব্যবসায়িক লোভের সন্দেহ রয়েছে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গভীর রাতে নৌকায় করে ৩৯ বস্তা সার আটক করে স্থানীয় জনতা। শনিবার রাত ১টায় নারায়ণপুর ইউনিয়নের আউয়ালের ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে আটক করা সার ও এর পরিবহনের বিষয়ে দায় নিতে রাজি নয় কৃষি বিভাগ। স্থানীয়রা জানান, সার পাচারের খবর পেয়ে তারা নৌকাটি আটক করেন এবং পরে ১ হাজার ৯৫০ কেজি সার পাওয়া যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৯ বস্তা সার আটক করে স্থানীয় জনতা, সেগুলো ফরিদুল জোয়ারদারের বাড়িতে জিম্মা রাখা হয়।
- 📌 সার কিনে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন আনিসুর রহমান, কিন্তু তিনি শুধু পরিবহনকারি ছিলেন বলে দাবি করেন।
- 📌 সার বিক্রির টাকা পাবেন আলতাফ হোসেন, কিন্তু তিনি সারগুলোর উৎস সম্পর্কে অস্পষ্ট উত্তর দেন।
- 📌 কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করেন, সারগুলো তাদের বরাদ্দের নয়, তবে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়ার কথা জানান।
- 📌 মোস্তফা মোল্লা ও তার শ্যালক আলতাফ হোসেনকে সার পাচারের সাথে জড়িত করে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 রফিকুল ইসলাম (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) জানান, সারগুলো যাত্রাপুর থেকে আনা হয়েছে।
- 📌 শাহরিয়ার হোসেন (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা) অনুসন্ধান করার কথা বললেও সার পাচারের পিছনের কারণ ব্যাখ্যা করেননি।
📰 বিস্তারিত
গঙ্গাধর নদীপথে নৌকায় করে সার নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা শনিবার রাত ১টায় আউয়ালের ঘাট এলাকায় নৌকাটি আটক করেন। পরে নৌকায় ৩৯ বস্তা সার পাওয়া যায়, যা মোট ১ হাজার ৯৫০ কেজি। সারগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় রাখা হয়। ফরিদুল জানান, রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে সারগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
সার কিনে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন আনিসুর রহমান, যিনি বলেন, তিনি শুধু পরিবহনকারি ছিলেন। তিনি জানান, সার কিনেছিলেন বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেলবীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের মাধ্যমে। আলতাফ হোসেনের দাবি, তিনি সারগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছেন। তবে সারগুলোর উৎস সম্পর্কে তিনি অস্পষ্ট উত্তর দেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মোস্তফা মোল্লা একজন সাব-ডিলার এবং আলতাফ হোসেন তাঁর শ্যালক। তিনি বলেন, সারগুলো যাত্রাপুর থেকে আনা হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষকদের প্রয়োজন থাকায় তারা সারগুলো আটক করেন। তবে প্রশাসন দায় নিতে অস্বীকার করলেও সারগুলো কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সারগুলো তাদের হিসাবের নয়। তিনি জানান, আলতাফ হোসেন কোনো ডিলার বা সাব-ডিলার নন, তবে একজন ব্যবসায়ী এত সার কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে।
"রাতে নৌকায় করে পাচারের সময় ৩৯ বস্তা সার আটক করা হয়। পরে সেগুলো আমার পাশের বাড়িতে রাখা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারি দামে সারগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।"
— ফরিদুল জোয়ারদার, স্থানীয় বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রামের নারায়ণপুর ইউনিয়ন, আউয়ালের ঘাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদুল জোয়ারদার, আনিসুর রহমান, আলতাফ হোসেন, মোস্তফা মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ বস্তা সার, ১ হাজার ৯৫০ কেজি, ১২ সেপ্টেম্বর, ১ টা রাত, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, ১ হাজার ৭০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!