📌 জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়া আইনের কোনো উল্লেখ ছিল না, কিন্তু তারা এখন তা চায়। তিনি সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের সমালোচনা করে বলেছেন, বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গুম প্রতিরোধ আইন, অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিরোধী দলের শরিয়া আইনের দাবিকে সমালোচনা করে বলেছেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়া আইনের কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের সদস্যরা সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের বিরোধিতা করে শরিয়া আইনের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু তাদের নিজস্ব ইশতেহারে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা ছিল না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শরিয়া আইনের দাবি: জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়া আইনের কোনো উল্লেখ ছিল না, কিন্তু বিরোধী দল এখন তা চায় — চিফ হুইপের দাবি
- 📌 সম্পত্তি হস্তান্তর বিল: বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল হাদিসের কথা উল্লেখ করে বিলের বিরোধিতা করছে
- 📌 গুম প্রতিরোধ আইন: ১৬টি বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা ও আইনজীবী-বিচারকদের মতামত নেওয়া হয়েছে; নতুন আইনে সর্বনিম্ন শাস্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 অর্থনৈতিক পদক্ষেপ: গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে; সরকারি খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
- 📌 বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা: আদানি গ্রুপের অসম চুক্তি থেকে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল; বিদ্যুৎ দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়েছে
- 📌 কৃষি খাতের উদ্যোগ: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ; ২০ লাখ পরিবারের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের পর সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিরোধী দলের সদস্যরা সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের বিরোধিতা করে শরিয়া আইনের দোহাই দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়া আইনের কোনো ঘোষণা ছিল না। তিনি বলেন, বিলটি বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে। হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে, সন্তানরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মা-বাবার সম্পদ ভোগদখলের অধিকার রাখবে।
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষা আইন নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে আসা ১৩৩টি আইনের মধ্যে ১৬টি আইন সাংসদীয় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এগুলোকে শক্তিশালী বিলে রূপান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন মানবাধিকার বিলে আগের ‘অনূর্ধ্ব ১০ বছর’ শাস্তির বিধান বাদ দিয়ে সর্বনিম্ন শাস্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছেন। এমপি-মন্ত্রীদের রসিদ ছাড়া বিল পরিশোধ না করা, সাধারণ পোশাক ও জীবনযাপন এবং সরকারি প্রটোকল কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না পেলেও বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেছেন তিনি।
কৃষি খাতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তিনি জানান, দুই কোটি পরিবারের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সারের চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ টন। এর বিপরীতে বর্তমানে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টন অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। তবে বিতরণে সাময়িক সমস্যার জন্য বিগত সরকারের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ সার ডিলার পলাতক থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
"বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষায় করা আইনের বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুমের শিকার হওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় সংসদ মিডিয়া সেন্টার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরুল ইসলাম মনি (চিফ হুইপ), সালাউদ্দিন সাহেব (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৫ কোটি ডলার (ঋণ পরিশোধ), ১৩৩টি আইন (প্রথম অধিবেশনে), ১৬টি আইন (পর্যালোচনা), ৫০০ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎকেন্দ্র), ৩৫ লাখ টন (সারের চাহিদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!