📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দেন যে, বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তিনি দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে একটি বিতর্কিত ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যদি কেউ তার বিরুদ্ধে বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করবেন। এই ঘোষণাটি আসিফের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজনীতি ছাড়ার শর্ত: আসিফ মাহমুদ ঘোষণা দেন, বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করবেন।
- 📌 অর্থ পাচার অভিযোগের প্রতিক্রিয়া: আসিফ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের তথ্য ‘আজকের কণ্ঠ’ ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 দুদকের তদন্তের সমালোচনা: আসিফ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার আগেই গণমাধ্যমের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
- 📌 প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাখ্যা: তিনি মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বৃদ্ধির দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, প্রকল্পের আওতা বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা যোগ করার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
- 📌 রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ: আসিফ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং কিছু জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তুষ্টির কারণে করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে কথা বলেন। তিনি বলেন, “শুধু প্রমাণ করুন যে আসিফ মাহমুদ বিদেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেছেন বা দেশের বাইরে সামান্য এক চিমটি ধুলাও কিনেছেন। বিদেশে কোথাও এক টাকাও পাওয়া গেলে সেদিনই আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।” তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা সর্বশেষ অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
দুদকের তদন্তের প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, “এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে। কিন্তু এই তদন্তের আগেই গণমাধ্যমের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ আমাকে ভুক্তভোগী করেছে। হয়তো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর দুদকের তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব, কিন্তু ততদিনে যে ক্ষতি হয়েছে, তা হয়ে যাবে।”
আসিফ মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “প্রকল্পের শুরুতে প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে তা প্রায় সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, প্যাভিলিয়ন ও দর্শকদের বসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি এখনো বাস্তবায়নাধীন। দুর্নীতি হয়ে থাকলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।”
আসিফ আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের নামও জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর। আপনারা অর্থ পাচারের অভিযোগে এমনকি একটি শিশুকেও টেনে আনছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
"দয়া করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচার করুন। শুধু ক্লিকবেইট শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ফেসবুক লাইভ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (এনসিপি মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা:
- ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (দুবাইয়ে অভিযোগিত অর্থ)
- ৩ হাজার কোটি টাকা (সিঙ্গাপুরে অভিযোগিত অর্থ)
- ২ হাজার কোটি টাকা (অস্ট্রেলিয়ায় অভিযোগিত অর্থ)
- ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (সুইজারল্যান্ডে অভিযোগিত অর্থ)
- ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা (মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয়)
- ১১ ফেব্রুয়ারি (‘আজকের কণ্ঠ’ পেজের পোস্টের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!