📌 আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শুক্রবার রাজধানীর বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি আবদুর রাজ্জাকের বইয়ের রাজনৈতিক ও চিন্তাধারাকে প্রশংসা করেন এবং মানবাধিকার ও পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণতন্ত্রের মূল্যবোধের উপর জোর দিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বই ‘জামায়াতে-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা অপরিহার্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণতন্ত্রে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করা বা একমত হওয়া উচিত নয় — আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
- 📌 আবদুর রাজ্জাকের বইতে ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে সমাজ থেকে মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে তোলার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে
- 📌 জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী
- 📌 আবদুর রাজ্জাকের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য
- 📌 মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় আবদুর রাজ্জাকের ভূমিকা প্রশংসা
- 📌 বইটি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পড়ার জন্য উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী
📰 বিস্তারিত
গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিটি বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। অন্যদিকে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা সঠিক নয়। আইনমন্ত্রী বলেন, অন্যের মতামত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বই ‘জামায়াতে-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, বইটিতে একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে। বইটির বিভিন্ন অংশে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শন উঠে এসেছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বইটিতে আলোচিত আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা অনুযায়ী, ইসলামিক শাসনব্যবস্থা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান এবং জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।
আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।
আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা চালাতে উৎসাহ দিতেন বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন আবদুর রাজ্জাক।
আইনমন্ত্রী ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সঙ্গে দেখা করে চা পান করেছেন, আবার কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বইটি পড়া উচিত। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্স অ্যান্ড গভর্নমেন্টের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর ও সাবেক মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।
"গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিটি বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। অন্যের মতামত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেল, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!