📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নারীর ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা মূলধারার অর্থনীতিতে যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ নভেম্বর ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে ডা. জুবাইদা রহমান নারীর ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
- 📌 বাংলাদেশে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ।
- 📌 মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করবে।
- 📌 ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীদের কর্মজীবনে পারিবারিক দায়িত্বের বাধা কমাতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ৩০তম ইউএস ট্রেড শো’র অংশ হিসেবে আয়োজিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানান। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীর অগ্রগতি শুধু শীর্ষ পদে পৌঁছানো নয়, বরং তাদের অনুসরণ করার সুযোগ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ এবং নেতৃত্বের ইতিবাচক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের কোটি কোটি নারী এখনো অর্থনীতির মূলধারায় পর্যাপ্তভাবে যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা তাদের সম্ভাবনা বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হারও চিন্তাজনক। ব্যানবেইসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হার মাত্র ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও, ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন নারীর আয়, সঞ্চয় এবং নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার ব্যক্তিগত সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে, তিনি জানান, প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি, ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
"নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয়ের বিষয় নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ে তোলার ক্ষমতা।"
ডা. জুবাইদা রহমান প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। নারীদেরও এই পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরে আসার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. জুবাইদা রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮.৬%, ৮০.৪%, ৫০.৮%, ৩৪.৯%, ২২.৫%, ২০.৮%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!