📌 বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামী ও কওমি আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের নতুন রূপ নেয়েছে। বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জামায়াতের জোটে যোগদানের কথা 'গোমরাহি' বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। হেফাজতের নেতারা জামায়াতকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে 'কাদিয়ানিদের চেয়েও খারাপ' বলে অভিহিত করেছেন, যা রাজনৈতিক বিরোধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে
বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক জগতে জামায়াতে ইসলামী ও কওমি আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের নতুন রূপ নেয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেকের সর্বশেষ বক্তব্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়া কওমি আলেমদেরকে 'গোমরাহি' (পথভ্রষ্ট) বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই বিরোধের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাসের তর্ক, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এবং ইতিহাসের জমে থাকা সন্দেহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাওলানা আবদুল মালেক জামায়াতের জোটে যোগদানের কথা 'গোমরাহি' বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা কওমি আলেমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
- 📌 মামুনুল হক মাওলানা আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে বলেছেন, তিনি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি, তবে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।
- 📌 হেফাজত ইসলাম জামায়াতকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে 'কাদিয়ানিদের চেয়েও খারাপ' বলে অভিহিত করেছে, যা রাজনৈতিক বিরোধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
- 📌 জামায়াতের জোটে কওমি আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, তাদের মধ্যে কিছু অংশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় যুক্তি ব্যবহার করছে।
- 📌 বিরোধের মূল কারণ তিনটি: ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের তর্ক, ইসলামের ব্যাখ্যার কর্তৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং ইতিহাসের জমে থাকা সন্দেহ।
📰 বিস্তারিত
বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক, যিনি কওমি ধারার শিক্ষাসচিব, জামায়াতের জোটে যোগদানের কথা 'গোমরাহি' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত থাকলেই কোনো দল 'হক' হয়ে যায় না। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজা মাওলানা আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে বলেছেন, 'বড় মসজিদের ইমাম খেপে গেছেন'।
এই বিরোধের মধ্যে রয়েছে মামুনুল হক এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তিনি জামায়াতের জোটে থাকলেও, কওমি আলেমদের মধ্যে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামুনুল হক বলেছেন, মাওলানা আবদুল মালেক আলেম হিসেবে উঁচু দরের হলেও রাজনীতিতে তাঁর শিষ্যত্ব তিনি গ্রহণ করেননি।
হেফাজতে ইসলামের 'ইসলামি ঐক্য' উদ্যোগে কওমি আলেমদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরউল্লাহ বিবিসিকে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের কোনো ঐক্যের সম্ভাবনা নেই। হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ২০২৫ সালের আগস্টে জামায়াতকে 'ধোঁকাবাজ ইসলামি দল' এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের মানদণ্ডে 'কাদিয়ানিদের চেয়েও খারাপ' বলে অভিহিত করেছেন।
বিরোধের মূল কারণ তিনটি: প্রথমত, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের তর্ক। দ্বিতীয়ত, ইসলামের ব্যাখ্যার কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রতিযোগিতা। তৃতীয়ত, ইতিহাসের জমে থাকা সন্দেহ। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদির বিশ্বাস এবং প্রয়োগের পদ্ধতি কওমি আলেমদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
"মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত থাকলেই কোনো দল ‘হক’ হয়ে যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বায়তুল মোকাররম মসজিদ), চট্টগ্রাম (মাহফিল), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাওলানা আবদুল মালেক, মামুনুল হক, মুফতি বশিরউল্লাহ, মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী
- 📊 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (বিরোধের মূল কারণ), ২০২৫ (মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মন্তব্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!