📌 পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া স্ত্রী তওবা করলেও তার সঙ্গে সংসার করা কি জায়েজ? ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, তওবা করলেও বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না। তবে স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নির্ভর করে সংসার চালিয়ে যাওয়া বা তালাক দেওয়া উচিত
পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া স্ত্রী তওবা করলেও তার সঙ্গে সংসার চালিয়ে যাওয়া কি জায়েজ? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সৃষ্ট সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহকে ভেঙে দেয় না। তবে সংসার চালিয়ে যাওয়া বা তালাক দেওয়া স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া স্ত্রী তওবা করলেও বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না — শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, আগের বিবাহটিই বহাল থাকে এবং নতুন করে বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন নেই।
- 📌 তওবা করার শর্ত: পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, অবিলম্বে সেই কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
- 📌 স্বামীর সিদ্ধান্ত: সংসার চালিয়ে যাওয়া বা তালাক দেওয়া সম্পূর্ণ স্বামীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। যদি স্বামী মনে করেন ক্ষমা করতে পারেন, তবে তিনি তা করতে পারেন।
- 📌 শরিয়তের অনুমতি: যদি স্বামী বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে সংসার করা সম্ভব না মনে করেন, তবে তালাক দেওয়ারও শরিয়ত অনুমতি দিয়েছে।
- 📌 পাপ গোপন রাখা: ইসলামে স্ত্রীর এই পাপের কথা জনসমক্ষে না এনে দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।
📰 বিস্তারিত
বর্তমান সময়ে পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ পরিবার থেকে দূরে প্রবাসে থাকেন, ফলে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সাথে যোগাযোগ কমে যায়। এই অবস্থায় অনেক স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করেন, তবে বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না। তিনি বলেন, আগের বিবাহটিই বহাল থাকে এবং নতুন করে বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন নেই।
তওবা করার জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহ তিনটি শর্ত উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে সেই কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন না করার দৃঢ় সংকল্প করা। তিনি আরও বলেন, সংসার চালিয়ে যাওয়া বা তালাক দেওয়া সম্পূর্ণ স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যদি স্বামী মনে করেন যে, তিনি ক্ষমা করে অতীত ভুলে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন করে সুন্দর সংসার করতে পারেন, তবে তিনি তা করতে পারেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে বান্দার পাপ গোপন রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর এই পাপের কথা জনসমক্ষে না এনে দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম। তবে যদি স্বামী মনে করেন যে, তার পক্ষে এই বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে সংসার করা সম্ভব নয় এবং দাম্পত্য জীবন স্থায়ী অশান্তিতে রূপ নেবে, তবে শরিয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমবার যদি স্ত্রী ভুল করেছেন এবং তওবা করেছেন, তবে তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত হবে।
"পরকীয়া বা ব্যভিচারের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আগের বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না। তওবা করার পর নতুন করে বিয়ে পড়ানোরও প্রয়োজন নেই, আগের বিয়েটিই বহাল থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ইসলামি আলোচনা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শায়খ আহমাদুল্লাহ (আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!