📌 রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও নেতৃবৃন্দ গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী আইন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার গণসমাবেশে জোরালো দাবি জানান। তারা সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় ঐকমত্য ও গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম ও নেতৃবৃন্দ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত গণসমাবেশে সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোরালো দাবি জানান। তারা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে সংসদের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর সংস্কার পরিষদ গঠন না করার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি: হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা সত্ত্বেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তিনি গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।
- 📌 রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার ছাড়া নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
- 📌 গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ: সরকার র্যাবকে ভিন্ন নামে সুসজ্জিত করছে, গুমের আইন প্রণয়ন করছে এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে দাবি করেন হাসনাত কাইয়ূম।
- 📌 অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি: অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক বলেন, বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রস্তাব বাতিল করেছে।
- 📌 রাষ্ট্র সংস্কারের নেতৃত্বে আন্দোলন: জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, সরকার ও বিরোধী জোট রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতি আগ্রহী নয়। তিনি গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
📰 বিস্তারিত
গণসমাবেশে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সংসদের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনো কার্যকর সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনের পুরোনো ব্যর্থ পথে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, র্যাবকে ভিন্ন নামে আরও সুসজ্জিত করা, গুমের পক্ষে আইন বানানো এবং জননিরাপত্তার পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় কোনো ধরনের টালবাহানা না করে গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, সংশোধনী কমিশন গঠন করে সংবিধানের ওপর দিয়ে কেবল কিছু উপরি কাঠামো পরিবর্তন করে রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সংকট নিরসন হবে না। তিনি বলেন, জনগণের মূল চাওয়া হলো রাষ্ট্রের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় ঐকমত্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।
অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক বলেন, দেশে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন যৌথভাবে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিতে একটি সমাবেশ করতে চেয়েছিল। তবে সরকার ঠুনকো কারণ দেখিয়ে ওই সমাবেশ বাতিল করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারে সরকার ও বিরোধী জোট আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, গণরায় বাস্তবায়নে অপরাপর অংশীজনদের নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
"আগের ১৭ বারের মতো সংবিধানের কোনো মামুলি সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ বা তা টেকসই করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসনাত কাইয়ূম, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নজরুল হক, নাঈম আহমাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বার সংবিধান সংশোধন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!