📌 ইতালির ত্রিয়েস্তে অবস্থিত 'লা ল্যান্টার্না' সৈকতে শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অংশ রয়েছে। ১০ ফুট উঁচু দেয়ালের পেছনে পুরুষদের অংশে আড্ডা-তাস খেলা, অন্যদিকে নারীদের অংশে বই পড়া ও সাঁতার কাটা। স্থানীয়দের কাছে এটি নারীদের স্বাধীনতার প্রতীক
ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর ত্রিয়েস্তের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী সমুদ্রসৈকতে শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অংশ রয়েছে। এই সৈকতের নাম ‘লা ল্যান্টার্না’ বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘এল পেদোচিন’। সৈকতের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় ১০ ফুট উঁচু সাদা দেয়াল, যা নারী ও পুরুষদের আলাদা করে রাখে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইতালির ত্রিয়েস্তে অবস্থিত ‘লা ল্যান্টার্না’ সৈকতে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অংশের ব্যবস্থা শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্য
- 📌 সৈকতে প্রবেশের পর একটি করিডর পেরিয়ে নারী ও পুরুষদের আলাদা অংশে প্রবেশের ব্যবস্থা
- 📌 নারীদের অংশে বই পড়া, সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা ও সাঁতার কাটা, পুরুষদের অংশে আড্ডা ও তাস খেলা
- 📌 ১৯০৩ সাল থেকে চালু এই সৈকতের ইতিহাসে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের শালীনতা আইন থেকে উদ্ভূত এই ব্যবস্থা
- 📌 স্থানীয়দের কাছে এটি নারীদের স্বাধীনতার প্রতীক, বাইরের পর্যটকদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়
📰 বিস্তারিত
ত্রিয়েস্তের এই সৈকতের নাম ‘লা ল্যান্টার্না’ বা স্থানীয়ভাবে ‘এল পেদোচিন’। স্থানীয়দের কাছে এটি বেশি পরিচিত এই নামে। সৈকতের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় ১০ ফুট উঁচু সাদা দেয়াল, যা নারী ও পুরুষদের আলাদা করে রাখে। সৈকতে প্রবেশের পর একটি করিডর পেরিয়ে নারী ও পুরুষদের আলাদা অংশে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীদের অংশে বিভিন্ন বয়সী নারীকে বই পড়া, সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা রোদ পোহাতে দেখা যায়। শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি হওয়ায় কর্মজীবী অনেক নারীও দুপুরের বিরতিতে এখানে এসে সাঁতার কাটেন। অন্যদিকে, দেয়ালের ওপাশে পুরুষদের অংশে চলে আড্ডা, তাস খেলা কিংবা বিশ্রাম। বন্দরকর্মীদেরও কাজের ফাঁকে এখানে সময় কাটাতে দেখা যায়।
সাগরের পানিতে গিয়ে এই বিভাজন আর থাকে না। তীর থেকে কিছুটা দূরে সাঁতরে গেলেই নারী-পুরুষের দেখা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাইরের পর্যটকদের কাছে এই ব্যবস্থা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। এমনকি মিলান থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি একবার এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টিতে এই দেয়াল কোনো বাধা নয়; বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক। নারী দর্শনার্থীদের অনেকের মতে, পুরুষের দৃষ্টি বা সামাজিক বিচার-বিশ্লেষণের চাপ ছাড়াই এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানো যায়।
স্থানীয় লেখক নিকোল ব্রুসাফেরোর ভাষায়, এটি বৈষম্যের জায়গা নয়, বরং নারীদের জন্য একটি স্বাধীন পরিসর। ইতিহাস বলছে, ১৯০৩ সালের দিকে সৈকতটি চালু হয়। সে সময় ত্রিয়েস্তে ছিল অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনে। তৎকালীন অস্ট্রীয় আইনে জনসম্মুখে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেত। সেই সময় থেকেই সৈকতে বিভাজনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ‘পেদোচিন’ শব্দের অর্থ ‘উকুন’। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, একসময় অস্ট্রীয় সৈন্যরা এই এলাকায় এসে ঘোড়ার গায়ের পোকামাকড় পরিষ্কার করতেন।
"এই সৈকত নারীদের স্বাধীনতার প্রতীক, বাইরের পর্যটকদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রিয়েস্তে, ইতালি (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিকোল ব্রুসাফেরো (লেখক), স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক দম্পতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ ফুট (দেয়ালের উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!