📌 চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে সিপিবি সাবেক সেক্রেটারি রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক লাভের কোনো প্রমাণ দেখানো যায়নি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে সিপিবি সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতারা সতর্কতা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তারা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক লাভের কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর হস্তান্তর করলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি তৈরি হবে
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত লংমার্চে অংশগ্রহণ করে প্রমাণিত হয়েছে, বন্দর রক্ষা এখন জাতীয় উদ্বেগের বিষয়
- 📌 ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ, যা শিল্প ও ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে
- 📌 বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এমন ধারণা ভিত্তিহীন
- 📌 ড. এম এম আকাশ বলেছেন, বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের প্রধান বন্দরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।’ তিনি সরকারকে এই চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
দেলোয়ার মজুমদার (বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক) লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এনসিটি ও সিসিটি দীর্ঘদিন দেশীয় কর্মকর্তা ও শ্রমিকের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদেশি ইজারা দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিল্প খাত ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বজলুর রশীদ ফিরোজ (বাসদ সাধারণ সম্পাদক) বলেন, ‘নিউমুরিং টার্মিনালের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন আধুনিকায়ন করা সম্ভব নয়। বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।’ অন্যদিকে, নুরুল্লাহ বাহার (চট্টগ্রাম সিবিএর সাধারণ সম্পাদক) বলেন, ‘এনসিটি বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে দেশীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির স্নায়ুমুখ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে গভীর মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’ আলোচনা সভায় এম এ সাঈদ (বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক) বলেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রধান বিবেচনা হিসেবে রাখতে হবে।’
"‘বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের প্রধান বন্দরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।’ — রুহিন হোসেন প্রিন্স
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় প্রেসক্লাব), চট্টগ্রাম বন্দর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: রুহিন হোসেন প্রিন্স, দেলোয়ার মজুমদার, বজলুর রশীদ ফিরোজ, ড. এম এম আকাশ, এম এ সাঈদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ শতাংশ (কনটেইনার চার্জ বৃদ্ধি), ৪ সেপ্টেম্বর (আলোচনা সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!