📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোটের তিন দিন আগে বিপিএএমইএ ২০২৬-২৮ নির্বাচন স্থগিত — সভাপতি পদে শাহরিয়ার ও জামিল আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুই মেয়াদ বিধি লঙ্ঘন ও ঋণখেলাপি অভিযোগ।
বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় — ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ইতিমধ্যে ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের ছয় সহসভাপতি ও ১৫ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন — আগামী শনিবার সভাপতি পদে একজন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পাঁচ পরিচালক নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের কথা ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- সভাপতি প্রার্থী: বর্তমান সভাপতি ও আদজি ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহরিয়ার (ঐক্য পরিষদের দলনেতা) — তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের এমডি জামিল আহমেদ।
- ৭ জুলাই সভাপতি প্রার্থী জামিল আহমেদ ও সংগঠনের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন করেন।
- অভিযোগ — বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদ পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না — কিন্তু শাহরিয়ার (সভাপতি) ও মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা (দ্বিতীয় সহসভাপতি) এই বিধি অমান্য করে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা হয়েছেন।
- আপিল বোর্ড অভিযোগ খারিজ করে শাহরিয়ার ও মোল্লার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে — কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার শুনানি করে নির্বাচন স্থগিত করে এবং অভিযোগকারীদের এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে যেতে বলে।
- আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত থাকবে — সভাপতি প্রার্থী শাহরিয়ার অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও আদজি ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহরিয়ার — তিনি ঐক্য পরিষদের দলনেতা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের এমডি জামিল আহমেদ — জামিল আহমেদ ছাড়া বাকি সব প্রার্থী ঐক্য পরিষদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭ জুলাই সভাপতি প্রার্থী জামিল আহমেদ ও সংগঠনের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন করেন।
আবেদনে তাঁরা অভিযোগ করেন, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদ পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না — কিন্তু সভাপতি পদে মো. শাহরিয়ার এবং দ্বিতীয় সহসভাপতি পদে মো. মনিরুজ্জামান মোল্লার ক্ষেত্রে এ বিধি অমান্য করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য সংগঠন আইন লঙ্ঘন করে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানোর আগে একই অভিযোগ বিপিএএমইএর নির্বাচন বোর্ড এবং পরে আপিল বোর্ডের কাছেও করেন জামিল আহমেদ ও মোহাম্মদ বেলাল — তবে আপিল বোর্ড তাঁদের অভিযোগ খারিজ করে সভাপতি পদে মো. শাহরিয়ার এবং দ্বিতীয় সহসভাপতি পদে মো. মনিরুজ্জামান মোল্লার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে বিধানের আওতায় অভিযোগ করা হয়েছে তা গত বছরের মে মাসে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করে সরকার — ওই বিধান অনুযায়ী সভাপতি ও সহসভাপতি পদে ওই দুই প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই বলে দাবি করেছে বিপিএএমইএ নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, অভিযোগকারীরা ওই বিধান পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর (ভূতাপেক্ষ প্রয়োগ) করার চেষ্টা করছেন — যদিও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ নেই। এ কারণেই নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড অভিযোগটি আমলে নেয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে — শুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদনকারীদের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিপিএএমইএর ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিত থাকবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সভাপতি প্রার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, "অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে তাঁদের কাউকেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে অভিযোগকারীকে এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে বিষয়টি উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে — কিন্তু সেখানেও অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া প্রার্থীদের কাউকেই পক্ষভুক্ত করা হয়নি এবং তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই সংগঠনের ঐক্য, স্থিতিশীলতা এবং সদস্যদের আস্থা নিশ্চিত করতে পারে। তাই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার সব ধরনের অপচেষ্টা থেকে বিরত থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!