📌 হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে, যা ভারতের অর্থনীতিকে বিপদে ফেলতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, হিমবাহের ৬৫% হারে গলন ঘটছে, যা ২০% জিডিপি নির্ভরশীল করে রাখে। নেপাল ও তিব্বতে বন্যার পর এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে
হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলন এবং হিমবাহজাত হ্রদের অস্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে বিপদে ফেলছে। নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, এক দশক আগের তুলনায় হিমবাহগুলো ৬৫% দ্রুত হারে আকার হারাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবনধারণের পানি সরবরাহকারী নদীগুলোর জন্য একটি মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমালয়ের ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে অন্তর্ভুক্ত, বাকিগুলো নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে
- 📌 ভারতের ১৮% ভূমি হিমালয় অঞ্চল হলেও, দেশের ৩৫% দুর্যোগ এই অঞ্চলেই ঘটে
- 📌 ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহজাত হ্রদের মধ্যে ৫৬টি "অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ" হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 হিমালয়ের পানি ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০% ভিত্তি জোগায়, কিন্তু এর মাত্র ৫% পাহাড়ি রাজ্যগুলো নিজেদের মধ্যে ধরে রাখতে পারে
- 📌 ২০২৩ সালে সিকিমে একটি হিমবাহজাত হ্রদের প্লাবনে ৭০ জন নিহত হন, ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে ২০০ জনেরও বেশি নিহত হন
📰 বিস্তারিত
বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলন এবং হিমবাহজাত হ্রদের অস্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চল একটি বিপজ্জনক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এই গবেষণাটি নেপাল ও তিব্বতে ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়া এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রকাশিত হয়েছে, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হিমালয়-কারাকোরাম অঞ্চলে আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলে অনেক হিমবাহ পর্যবেক্ষণের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা বাস্তব অবস্থার নজরদারি করতে বাধা সৃষ্টি করছে। হিমবাহ গলে গিয়ে বড় আকারের হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে, যা সাধারণত ভঙ্গুর পাথর ও বরফের স্তূপ দ্বারা আটকে থাকে। তবে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে পারমাফ্রস্ট এবং উচ্চ পার্বত্য ঢালগুলোও নাজুক হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব জমাট মাটি গলে যেতে পারে, যার ফলে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ভূমির প্রায় ১৮% হিমালয় অঞ্চল হলেও, দেশের প্রায় ৩৫% দুর্যোগ এই অঞ্চলেই ঘটে। জুলাই মাসে ভারত সরকার সংসদকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলের ১৮৯টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পর ৫৬টি হিমবাহজাত হ্রদকে "অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, ভারতের হিমালয়ীয় নদী অববাহিকাগুলোতে ১০ হেক্টরের বেশি আয়তনের ২,৪৮৫টি হিমবাহ উদ্ভূত হ্রদ কেন্দ্রীয় পানি কমিশন পর্যবেক্ষণ করছে।
হিমালয় একটি বিশাল প্রাকৃতিক জলব্যবস্থা, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নদীগুলোকে পানি সরবরাহ করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের অধিকাংশ নদী অববাহিকায় এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে "পিক ওয়াটার" বা হিমবাহ থেকে গলে আসা পানি প্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর হিমবাহের ভর কমে যাওয়ায় এ প্রবাহ হ্রাস পেতে শুরু করবে।
"হিমালয় হলো তৃতীয় মেরু," বলেছেন জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ লর্ড নিকোলাস স্টার্ন। "আর্কটিক বা অ্যান্টার্কটিকার মতো নয়, এই মেরুর নিচে শত শত মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অবকাঠামো, যা একটি সংকটজনক মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হিমালয় অঞ্চল (ভারত, নেপাল, তিব্বত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লর্ড নিকোলাস স্টার্ন (গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫% (হিমবাহের গলন হার), ২০% (জিডিপি নির্ভরশীলতা), ৫৬টি (অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!