📌 স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য দিতে গেলে সরকারি দলের সদস্যদের হইচই-হট্টগোলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বললেও রুমিন ফারহানা গণতান্ত্রিক সংসদে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির বিপরীতে নতুন আইন প্রণয়নের আশঙ্কা তুলেছেন
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য দিতে গেলে সরকারি দলের সদস্যদের হইচই-হট্টগোলের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনায় এই অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংসদে অকথ্য আচরণ: রুমিন ফারহানা বলেছেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সাংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না’।
- 📌 গণতন্ত্রের আশঙ্কা: রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব, অন্তত এই সংসদে যারা উপস্থিত আছেন, তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে’।
- 📌 র্যাব বিলুপ্তির আশঙ্কা: তিনি বলেন, ‘র্যাবকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোই ঐকমত্যে এসেছিল। এর পরিবর্তে নতুন সংস্থা যদি কেবল নাম পরিবর্তন করে থাকে, তাহলে তা গণতন্ত্রের বিপরীতে হবে’।
- 📌 স্পিকারের প্রতিক্রিয়া: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বাক স্বাধীনতার পক্ষে আছি। গতকাল যা হয়েছিল, আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে’।
- 📌 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ: রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নানানভাবে মানুষকে হেনস্তা হতে দেখেছি। ভবিষ্যতে আমরা এ রকম আর কোনো সংস্থার আচরণ চাই না’।
📰 বিস্তারিত
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকাল আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ডিসেন্ট ভয়েস রেইজ করা যায় বলে আমার মনে হয়নি’।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না। আমার কথার যদি কোনো কাউন্টার বলার ব্যাপার থাকত, সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করার পরে বক্তব্য দেওয়া যেত। শুধু তাই নয়, মাননীয় স্পিকার—এই মহান সংসদে আমারই আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন’।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাত দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার ইশারা করে রুমিন ফারহানার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার সেন্টিমেন্টকে সম্মান করি। আমি আশা করি, সরকারি দল বা বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষকে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করা হবে না’।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একটা সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, সংসদে স্বতন্ত্র নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও থাকবে। একেকজনের একেক রকম মতো থাকতে পারে। সেটা প্রকাশ করার স্বাধীনতা প্রত্যেকের থাকা উচিত’। তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের সংসদের বিষয়ে আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগের সংসদে যখন একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলাম, তখনো এমন জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল’।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘র্যাবকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোই ঐকমত্যে এসেছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত এই সংস্থাটি বাতিলের জন্য প্রশ্ন তুলেছিল। এর পরিবর্তে নতুন যে সংস্থা আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি যেন কেবলমাত্র পোশাক পরিবর্তনের মতো নাম পরিবর্তনে সবকিছু পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা না হয়’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমিও মাননীয় কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে রাজি না। গতকালকে অর্থমন্ত্রীর একটা বিল ছিল, ১৮ ক বিলুপ্ত একটা আইন। তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য ছিল না’।
“আমি আশা করব, অন্তত এই সংসদে যারা উপস্থিত আছেন, তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং বাহিনীগুলোকে—সেটা পুলিশ বাহিনী হোক, র্যাব হোক কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী হোক—তারা যাতে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে, দলীয়করণমুক্ত হয়ে, প্রভাবমুক্ত হয়ে যার যার মতো কাজ পরিচালনা করতে পারেন”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুমিন ফারহানা, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ ক (বিলুপ্ত আইন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!