📌 সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিনি জানতে চান, সরকার কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘গলা চেপে ধরছে’। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগে ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারবিরোধী সংবাদ প্রকাশের পর গণমাধ্যম থেকে প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া এবং সাইবার হামলার অভিযোগ তুলে সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ সরকারকে প্রশ্ন করেন, সরকার কি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘গলা চেপে ধরছে’ কি না
- 📌 তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে তিনি সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান
- 📌 স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব
- 📌 সরকারি উদ্যোগে ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন
- 📌 তথ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্টচেকিং কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়
📰 বিস্তারিত
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী বা মন্ত্রীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সাইবার হামলার অভিযোগও তুলেন তিনি।
হান্নান মাসুদ বলেন, সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদও সরিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চ্যানেল ওয়ান-এ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাইবার হামলা হয়। ফলে দীর্ঘদিন প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গণমাধ্যমকে কোনো নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম স্বাধীন এবং সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার অধিকার গণমাধ্যমের নিজস্ব বিষয়।
"প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গণমাধ্যমকে আমরা কোনো রকম কন্ট্রোল করতে চাচ্ছি না, করছিও না। সংবাদমাধ্যম স্বাধীন। কোন সংবাদ আপলোড করবে, কোন সংবাদ ডাউনলোড করবে, কোন সংবাদ ছাপবে বা ছাপবে না, এটি তাদের নিজস্ব বিষয়।"
একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন সরকারের ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তথ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।
তথ্য অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় শহরের আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করে। অপতথ্য শনাক্তের পর সরকারি ‘ফ্যাক্টচেক’ বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।
লিখিত জবাবে আরও জানানো হয়, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল হান্নান মাসুদ, ইয়াসের খান চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, ৩০৬টি সরকারি উদ্যোগে প্রকাশিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!