📌 মাল্টার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দারুল উলূম দেওবন্দে ফিরে আসা শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) মুসলমানদের দুটি মূল সমস্যা চিহ্নিত করেন: কোরআন পরিত্যাগ এবং পারস্পরিক বিবাদ। তিনি জীবনের অবশিষ্ট সময় কোরআন শিক্ষা প্রচারে উৎসর্গ করার প্রতিজ্ঞা করেন
মাল্টার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দারুল উলূম দেওবন্দে ফিরে আসা শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) মুসলমানদের পুনরুজ্জীবনের জন্য দুটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা কেন ধর্মীয় ও পার্থিবভাবে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হচ্ছেন, তার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে: কোরআন পরিত্যাগ এবং নিজেদের মধ্যে লড়াই-বিবাদ। এই দুটি সমস্যা মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বিপদ ও বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মাল্টার কারাগার থেকে শাইখুল হিন্দের শেষ বার্তা**: মুসলমানদের দুটি মূল সমস্যা চিহ্নিত করা — কোরআন পরিত্যাগ এবং পারস্পরিক বিবাদ।
- 📌 **দুটি শিক্ষা অর্জন**: কারাগারের নির্জনতায় তিনি বিশ্বের মুসলমানদের ধ্বংসের কারণ হিসেবে কোরআন পরিত্যাগ ও মতবিরোধকে চিহ্নিত করেন।
- 📌 **কোরআন শিক্ষার প্রচার**: তিনি জীবনের অবশিষ্ট সময় কোরআন শিক্ষা প্রচারে উৎসর্গ করার প্রতিজ্ঞা করেন, যার মধ্যে শিশুদের জন্য মক্তব প্রতিষ্ঠা ও বয়স্কদের জন্য দরসে কোরআন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- 📌 **মুসলমানদের ঐক্য**: তিনি বলেন, পারস্পরিক বিবাদ মূলত কোরআন পরিত্যাগেরই ফল। কোরআনের শিক্ষা যদি আমল করা হতো, তাহলে মুসলমানদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছত না।
- 📌 **শাইখুল হিন্দের মৃত্যু**: মুক্তি পেয়ে মাত্র ৩০ নভেম্বর ১৯২০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
📰 বিস্তারিত
মাল্টার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দারুল উলূম দেওবন্দে ফিরে আসা শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) মুসলমানদের পুনরুজ্জীবনের জন্য দুটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা কেন ধর্মীয় ও পার্থিবভাবে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হচ্ছেন, তার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে: কোরআন পরিত্যাগ এবং নিজেদের মধ্যে লড়াই-বিবাদ। এই দুটি সমস্যা মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বিপদ ও বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।
কারাগারের নির্জনতায় তিনি গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেন যে, সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা কেন ধর্ম ও পার্থিব জীবনে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তিনি দুটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন: প্রথমত, কোরআন পরিত্যাগ এবং দ্বিতীয়ত, নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ ও গৃহযুদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি মাল্টার কারাজীবন থেকে দুটি শিক্ষা অর্জন করেছি...’ এই কথা শুনে উপস্থিত আলেমদের সমাবেশে গভীর মনোযোগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
শাইখুল হিন্দের এই শেষ বার্তায় তিনি মুসলমানদের পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার অবশিষ্ট জীবন এই কাজে উৎসর্গ করব, যেন কোরআনে কারিমকে শব্দে ও অর্থে সবার কাছে সর্বজনীন করে তোলা যায়।’ তিনি শিশুদের জন্য প্রতিটি জনপদে কোরআন শিক্ষার মক্তব প্রতিষ্ঠা এবং বয়স্কদের জন্য সাধারণ ‘দরসে কোরআন’-এর মাধ্যমে কোরআনের মর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
শাইখুল হিন্দের এই বার্তা আজও মুসলমানদের জন্য প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহ ও বিবাদ কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।’ তিনি মনে করেন, পারস্পরিক বিবাদ মূলত কোরআন পরিত্যাগেরই ফল। কোরআনের শিক্ষা যদি আমল করা হতো, তাহলে মুসলমানদের অন্তর্দ্বন্দ্ব এমন শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছত না।
শাইখুল হিন্দ (রহ.) মাল্টার কারাগার থেকে নিয়ে এসেছিলেন সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট মুক্তির সনদ। তিনি বলেন, ‘আমি মুসিবতের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছি, কোনো অপরাধের জন্য নয়।’ কারাগারের নির্জনতায় তিনি বলেন, ‘এ আর কিসের কষ্ট, যা একদিন শেষ হয়েই যাবে! আসল চিন্তা তো হলো, এই কষ্ট ও পরিশ্রম মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হলো কি না?’
"আমি মাল্টার কারাজীবন থেকে দুটি শিক্ষা অর্জন করেছি... তাদের কোরআন পরিত্যাগ করা। তাদের নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ ও গৃহযুদ্ধ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দারুল উলূম দেওবন্দ, মাল্টা কারাগার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ নভেম্বর ১৯২০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!