📌 মহানবী (সা.) মক্কার জিয়াদে মেষ চরানোর সময় দুটি ঘটনা ঘটে, যা তাঁর জীবনে আল্লাহর হেফাজতের স্মৃতি হিসেবে রেখে গিয়েছেন। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি মদিনায় হিজরতের আগে ইয়েমেন থেকে হাবশায় পৌঁছান এবং সেখানে দুই বছর কাটান। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবীজি মক্কায় মেষ চরানোর সময় দুটি ঘটনা ঘটে, যা তাঁকে আল্লাহর নবুয়তের পথে পরিচালিত করে
মহানবী (সা.)-এর বাল্যকালের একটি অদ্ভুত স্মৃতি জিয়াদে মেষ চরানোর সময় ঘটে, যা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে আল্লাহর হেফাজতের সাক্ষ্য বহন করে। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি মক্কার জিয়াদ নামক স্থানে মেষ চরানোর সময় দুটি ঘটনা ঘটে, যা তাঁকে জাহিলি যুগের মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর নবুয়তের পথে পরিচালিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহানবী (সা.) মক্কার জিয়াদে মেষ চরানোর সময় দুটি ঘটনা ঘটে, যা তাঁর জীবনে আল্লাহর হেফাজতের স্মৃতি হিসেবে রেখে গিয়েছেন।
- 📌 সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি মদিনায় হিজরতের আগে ইয়েমেন থেকে হাবশায় পৌঁছান এবং সেখানে দুই বছর কাটান।
- 📌 মুসা (আ.) এবং মহানবী (সা.) উভয়ই তাঁদের পরিবারের মেষ চরাতেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁদেরকে নবুয়তের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।
- 📌 আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি বলেছেন, ‘আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি মেষ চরাননি’।
- 📌 আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি মক্কার উঁচু এলাকায় মেষ চরানোর সময় দুটি ঘটনা ঘটে, যা তাঁকে জাহিলি যুগের মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে।
📰 বিস্তারিত
মহানবী (সা.)-এর বাল্যকালের একটি স্মৃতি, যা তিনি মদিনায় একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্মরণ করেছিলেন, তা হলো মক্কার জিয়াদে মেষ চরানোর সময়। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি মক্কি জীবনে ইসলাম গ্রহণ করে ইয়েমেনে চলে যান। এরপর নবীজির মদিনায় হিজরতের সংবাদ পেয়ে মদিনার ‘ইশ বন্দর’-এর উদ্দেশে জাহাজে চড়েন। কিন্তু উত্তাল লোহিত সাগর তাঁকে হাবশা (ইথিওপিয়া) উপকূলে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি প্রায় দুই বছর জাফর ইবনে আবি তালিবের সঙ্গে কাটিয়ে দেন।
সপ্তম হিজরিতে খাইবার বিজয় এবং হাবশার মুহাজিরদের মদিনায় আগমনের খবর পেয়ে নবীজি আনন্দিত হন। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি বলেছেন, ‘নবী মুসা প্রেরিত হয়েছেন, তিনি ছিলেন তাঁর পরিবারের ছাগলের রাখাল; আমিও প্রেরিত হয়েছি, আমিও আমার পরিবারের ছাগল চরাতাম জিয়াদে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘গর্ব ও অহংকার উটের মালিকদের এবং প্রশান্তি ও উচ্চ মর্যাদা ছাগলের মালিকদের।’
আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি বলেছেন, ‘আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি মেষ চরাননি।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও মক্কার কারারিতে মেষ চরাতাম।’ এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, সাহাবিরা নবীজির রাখালজীবনের এই নির্দিষ্ট দিকটি সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিলেন না।
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজি বলেছেন, ‘জাহিলি যুগের লোকজন যেসব নিন্দনীয় কাজের ইচ্ছা পোষণ করত, আমি কখনো সেরকম কাজের ইচ্ছা পোষণ করিনি; তবে সারা জীবনে দুবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন।’ তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এক রাতে মক্কার উঁচু এলাকায় তিনি এক কোরাইশ যুবকের সঙ্গে মেষ চরাতেন। সেই যুবককে তিনি বলেন, ‘আমার মেষগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি রেখো; আজকের রাতটি আমি মক্কায় অন্যান্য যুবকের ন্যায় (আড্ডা ও গল্পগুজবে) কাটিয়ে দেব।’
সেই রাতে যখন তিনি মক্কার নিকটবর্তী এলাকায় গান, দফ ও মাজামিরের আওয়াজ শুনেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এখানে কী হচ্ছে?’ তারা বলেন, ‘অমুকের সঙ্গে অমুকের বিয়ে; এক কোরাইশ যুবক আরেক কোরাইশ নারীকে বিয়ে করেছে।’ সেই আওয়াজে তাঁর মনোযোগ ব্যাহত হয় এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে সূর্যের উত্তাপে তাঁর ঘুম ভাঙে। তিনি ফিরে আসেন এবং সেই ঘটনাটি তাঁর সঙ্গীর সাথে শেয়ার করেন। পরের রাতে তিনি আবার একই ঘটনা ঘটে এবং সেই ঘটনায় তাঁর কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা পোষণ করেন না। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, এরপর আমি এমন কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছাও পোষণ করিনি, যা জাহিলি যুগের লোকেরা করত; পরিশেষে আল্লাহ আমাকে নবুয়ত দিয়ে সম্মানিত করেছেন।’
"আমার মেষগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি রেখো; আজকের রাতটি আমি মক্কায় অন্যান্য যুবকের ন্যায় (আড্ডা ও গল্পগুজবে) কাটিয়ে দেব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মক্কার জিয়াদ, মদিনা, হাবশা (ইথিওপিয়া), লোহিত সাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহানবী (সা.), আবু সাইদ খুদরি (রা.), মুসা (আ.), আবু হোরাইরা (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বছর (হাবশায় কাটানো সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!