📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ইউসিবিকে আইনি বাধা থেকে ছাড় দিয়েছে। এতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ৩০% শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ১০% শেয়ার সীমারও ছাড় পেয়ে বড় বিনিয়োগ আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে
বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা থেকে মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দিয়েছে। এছাড়া একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নতুন করে যেকোনো পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করার সুযোগও পেয়েছে ইউসিবি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ইউসিবিকে ৩০% শেয়ার ধারণের আইনি বাধা থেকে ছাড় দিয়েছে
- 📌 একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ১০% শেয়ার সীমারও ছাড় পেয়েছে ইউসিবি
- 📌 সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের পরিবারের সদস্যদের শেয়ার বাজেয়াপ্তের কারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এই ছাড়
- 📌 ইউসিবি ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ও ৮০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা নিয়ে আছে
- 📌 কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত ছিল, এখন ছাড়ের কারণে সহজ হবে
📰 বিস্তারিত
ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ইউসিবিকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এই ছাড়ের ফলে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নতুন করে যেকোনো পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করার সুযোগও পেয়েছে ইউসিবি।
ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউসিবির সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির নানা অনিয়মের সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল। ওই সময়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল এবং অনিয়মের কারণে পরিবারের সদস্যদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে। এতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ফলে নতুন করে শেয়ার ইস্যুর পথও বন্ধ হয়ে যায়।
ইউসিবি নতুন করে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(ক)(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একক বা যৌথভাবে কোনো ব্যাংকের শতকরা ১০ ভাগের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারত না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়ে ইউসিবি এখন যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।
"ইউসিবিকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাশীল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০ কোটি টাকার বন্ডও ইস্যু করা হবে।" — ইউসিবির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জীশান কিংশুক হক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, জীশান কিংশুক হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ৭৭৫ কোটি টাকা, ৮০০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!