📌 শচীন দেববর্মণের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুমিল্লায় শুরু হয়েছে ‘শচীন মেলা-২০২৬’। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা দাবি করছেন, শিল্পীর পৈতৃক বাড়ির বেদখল অংশ উদ্ধার ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে হবে
কুমিল্লা: উপমহাদেশের সংগীতজগতে অমর সুরস্রষ্টা শচীন দেববর্মণের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে ‘শচীন মেলা-২০২৬’। এই দুই দিনব্যাপী মেলায় সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন চলছে। তবে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু মেলা আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না — শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়ির বেদখল অংশ উদ্ধার ও পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণের প্রয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শচীন দেববর্মণের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুমিল্লায় শুরু হয়েছে ‘শচীন মেলা-২০২৬’ (৩০-৩১ অক্টোবর, ২০২৬)।
- 📌 কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে এই মেলা।
- 📌 স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা দাবি করছেন, শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়ির বেদখল অংশ দ্রুত উদ্ধার ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে হবে।
- 📌 ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান সরকার বাড়ির একটি অংশে হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির অংশ অব্যবস্থাপনা ও বেদখলে ছিল।
- 📌 ২০১৩ সালে বাড়ির একাংশ বেদখলমুক্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভাব রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
শচীন দেববর্মণ ছিলেন বাংলা ও ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র সুরস্রষ্টা। তার সৃষ্ট গান ও সুর আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমাদৃত। কুমিল্লার মাটিতে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তির স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর শচীন মেলার আয়োজন করা হলেও, বাড়ির যথাযথ সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন উঠে আসছে।
মেলার আয়োজনে প্রশংসা করলেও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, শুধু দুই দিনের মেলা নয় — বাড়িটিকে কেন্দ্র করে সারা বছর সংগীতচর্চা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে। সংগীতশিল্পী ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব বলেন, “শচীন দেববর্মণ আমাদের সংগীতজগতের অমূল্য সম্পদ। তার জন্ম ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়িটিকে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা দরকার।”
কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা মো. আল-আমীন বলেন, শচীন দেববর্মণ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, “এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। এখানে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যা নতুন প্রজন্মকে শচীন দেববর্মণের জীবন ও কর্মের ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।”
"শচীন দেববর্মণ আমাদের সংগীতজগতের অমূল্য সম্পদ। তার জন্ম ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়িটিকে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা দরকার।"
কুমিল্লার ঐতিহ্য সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লার গর্ব ও অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ। তিনি দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির একটি অংশ বেদখলে রয়েছে। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত উদ্ধার করে বাড়িটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়া উচিত। এটি বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়বে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, চর্থায় অবস্থিত শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শচীন দেববর্মণ, ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব, মো. আল-আমীন, জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী (৩০-৩১ অক্টোবর, ২০২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!