📌 ইসলামে তাবিজ বা জাদুসহ কাউকে বশ করার প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ। কোরআনে জাদুকে মানুষের সম্পর্ক ভাঙার অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাবিজ ঝুলানো শিরক এবং বশীকরণকারীর কাছে যাওয়া থেকে মুসলমানদের সতর্ক করা হয়েছে
ইসলামে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ বা পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাবিজ, কবচ বা জাদুসহ বশীকরণের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরআন ও হাদিসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিপদ ও নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে পছন্দের ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করা, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিজের অনুকূলে আনা বা অন্যকে বশ করার উদ্দেশ্যে তাবিজ ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য হরাম ও বিপজ্জনক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কোরআনে (সুরা বাকারা: ১০২) জাদুকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভাঙার অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
- 📌 রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাবিজ ঝুলানো শিরক (মুসনাদ আহমাদ: ১৭৪০৪)
- 📌 বশীকরণ তাবিজে অজানা মন্ত্র বা শিরকি বিষয় থাকলে তা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- 📌 গণকের কাছে যাওয়া ও তার কথা বিশ্বাস করা ৪০ দিন পর্যন্ত নামাজ কবুল না হওয়ার হুকুম (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)
- 📌 ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী থেকে উলামা ফয়জুল্লাহ রিয়াদ মুহাদ্দিসের সতর্কবার্তা
📰 বিস্তারিত
সমাজে তাবিজ বা বশীকরণ তাবিজের প্রচলন দেখা যায় বিশেষ করে বিবাহের জন্য পছন্দের ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে। ইসলামে এ ধরনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত’ (সুরা বাকারা: ১০২)। এ আয়াতে জাদু বা বশীকরণের মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বশীকরণ তাবিজে অনেক সময় অজানা মন্ত্র, জিন-শয়তানের সাহায্য প্রার্থনা বা শিরকি বিষয় থাকতে পারে। এ ধরনের তাবিজ ব্যবহার করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল’ (মুসনাদ আহমাদ: ১৭৪০৪)।
বশীকরণকারীরা দাবি করেন, তারা বিশেষ মন্ত্র বা জিনের সাহায্যে কাউকে বশ করে দিতে পারে। কিন্তু এসব দাবি বিশ্বাস করা মুসলমানদের জন্য বিপজ্জনক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, ৪০ দিন তার নামাজ কবুল করা হয় না’ (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ীর মুহাদ্দিস ফয়জুল্লাহ রিয়াদ মুহাদ্দিস বলেছেন, ইসলামে কাউকে বশ করার জন্য তাবিজ বা জাদু ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কোরআনের আয়াত বা শরিয়তসম্মত দোয়া লিখে তাবিজ ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু অজানা মন্ত্র বা শিরকি বিষয় থাকলে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
"তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।" (সুরা বাকারা: ১০২)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়জুল্লাহ রিয়াদ মুহাদ্দিস (জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২ (সুরা বাকারা আয়াত), ৪০ দিন (নামাজ কবুল না হওয়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!