📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারো পাহাড়ের বারোমারী খ্রিস্টধর্মপল্লীতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শুরু হয়েছে ফাতেমা রাণীর দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার তীর্থযাত্রী অংশ নিচ্ছেন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, যেখানে নিশ্চিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল থেকে শুরু হয়েছে ফাতেমা রাণীর দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব। এই বার্ষিক ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বারোমারী সাধু লিও’র খ্রিস্টধর্মপল্লীতে, যেখানে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে বরোটার সময় মহাখ্রিস্টযাগের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারো পাহাড়ের বারোমারী খ্রিস্টধর্মপল্লীতে শুরু হয়েছে ফাতেমা রাণীর দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব
- 📌 উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে ৪২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বারমারী সাধু লিও’র ধর্মপল্লীতে, যেখানে ৪৮ ফুট উঁচু মা-মারিয়ার বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে
- 📌 এই তীর্থোৎসবে অংশ নিচ্ছেন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার তীর্থযাত্রী, যেখানে নিশ্চিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
- 📌 তীর্থোৎসবের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে আলোর শোভাযাত্রা, পাপস্বীকার, নিশি জাগরণ এবং জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান
- 📌 এই বছর প্রধান পুরোহিত হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি
- 📌 উৎসবের আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেছেন, “অন্যান্য বছরের মত এ বারের আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতিও খুবই ভালো থাকায় আমরা আশা করছি ভাবগাম্ভীর্য এবং শান্ত প্রিয়ভাবে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারব”
- 📌 পুলিশসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে, যেখানে পোশাকি ও সাদা পোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য নিয়োজিত রয়েছে
📰 বিস্তারিত
শেরপুর জেলার বারোমারী খ্রিস্টধর্মপল্লীতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব। এই বছরও বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় পবিত্র খ্রিস্টযাগ বা প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। এই তীর্থোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য, তবে বাঙ্গালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অংশ নিচ্ছেন।
তীর্থোৎসবের একদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্টভক্তরা আসতে শুরু করেছেন। প্রশাসন থেকেও প্রায় অর্ধলক্ষ তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই তীর্থোৎসবের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে আলোর শোভাযাত্রা, মহাখ্রিস্টযাগ, পাপস্বীকার, নিশি জাগরণ এবং শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
তীর্থযাত্রার আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী খ্রিস্টান মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেছেন, “অন্যান্য বছরের মত এ বারের আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতিও খুবই ভালো থাকায় আমরা আশা করছি ভাবগাম্ভীর্য এবং শান্ত প্রিয়ভাবে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারব। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিষ্টভক্তরা মিশনের মাঠে চলে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের এই উৎসব পরিদর্শন করেছেন।”
এই তীর্থোৎসবের পাশাপাশি তীর্থপল্লীর পাশের মাঠে বসেছে খ্রিস্টধর্মীয় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর দোকান, গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, চুরি-মালা, বাসা-বাড়ির আসবাবপত্র, শো-পিস, শিশুদের নানান খেলনা সহ বিভিন্ন বাহারি পণ্যের মেলা। এই মেলায় খ্রিস্টভক্ত গারো সম্প্রদায় ছাড়াও বাঙ্গালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ভীড়ে পড়ছেন।
"এবার উৎসবকে ঘিরে পোশাকি এবং সাদা পোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। আশা করি খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবের মুখেই অনুষ্ঠান শেষ করতে পারবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা, গারো পাহাড়ের বারোমারী খ্রিস্টধর্মপল্লী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাদার তরুণ বনোয়ারী, বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি, তীর্থযাত্রী বিপন সংমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ অক্টোবর (উৎসবের শুরু), ৩০ অক্টোবর (উৎসবের শেষ), ৪২ একর (ধর্মপল্লীর জমি), ৪৮ ফুট (মা-মারিয়ার মূর্তির উচ্চতা), চার শতাধিক পুলিশ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!