📌 আতিথেয়তার সর্বোচ্চ স্তর দেখিয়েছেন এক আনসার সাহাবি দম্পতি। নিজের ক্ষুধা ভুলিয়ে মেহমানকে খাওয়ানোর মাধ্যমে তারা আল্লাহর প্রশংসা পেয়েছিলেন। কোরআনের আয়াত ৯ ও ১৯ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের উদারতা প্রশংসা করেছেন
আতিথেয়তার সর্বোচ্চ রূপ দেখিয়েছেন এক আনসার সাহাবি দম্পতি। তাদের উদারতা ও ত্যাগের গল্প থেকে আল্লাহর প্রশংসা পেয়েছেন। নিজের ক্ষুধা ভুলিয়ে মেহমানকে খাওয়ানোর মাধ্যমে তারা কীভাবে মানুষের মনে আলো জাগিয়েছেন, তা কোরআনের আয়াতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 একজন আনসার সাহাবি ও তাঁর স্ত্রী নিজের ক্ষুধা ভুলিয়ে মেহমানকে খাওয়ানোর মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা পেয়েছিলেন।
- 📌 নবীজির অতিথিকে গ্রহণ করার সময় তাদের ঘরে শুধু সন্তানদের রাতের খাবারটুকুই ছিল।
- 📌 বাতি নিভিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তারা মেহমানকে নিশ্চিন্তে খেতে দিয়েছিলেন, নিজেদের ক্ষুধা লুকিয়ে রেখেছিলেন।
- 📌 আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও নিজেরা অভাবগ্রস্ত’ (সুরা হাশর, আয়াত: ৯)।
- 📌 মহৎ কাজে স্ত্রীর অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বামীর সিদ্ধান্তে সম্মত হন এবং সন্তানদের ক্ষুধার্ত রেখে মেহমান আপ্যায়ন করেন।
- 📌 আল্লাহ বলেছেন, ‘অন্তরের কার্পণ্য থেকে যাদের রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম’ (সুরা হাশর, আয়াত: ৯)।
📰 বিস্তারিত
আতিথেয়তার জন্য কী জরুরি, প্রাচুর্য নাকি হৃদয়ের উদারতা—এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় এক আনসার সাহাবি ও তাঁর স্ত্রীর জীবনের একটি ঘটনা থেকে। তাদের ঘরে খাবার ছিল সামান্য, সেই খাবারটুকুও তারা একজন মেহমানকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। নিজেরা রাত কাটিয়েছিলেন অভুক্ত অবস্থায়। পবিত্র কোরআনে স্বয়ং আল্লাহ তাঁদের এই আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন।
একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নবীজির কাছে এলেন। নবীজি (সা.) তাঁর খাবারের ব্যবস্থা করতে পরিবারের কাছে খবর পাঠালেন। কিন্তু নবীপত্নীদের ঘরে পানি ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি সাহাবিদের বললেন, ‘কে এই ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করবে?’ একজন সাহাবি এগিয়ে এলেন এবং নবীজির অতিথিকে গ্রহণ করলেন। বাড়িতে গিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘রাসুলের অতিথিকে সম্মান করো’। স্ত্রী জানালেন, ঘরে শুধু সন্তানদের রাতের খাবারটুকুই আছে। সাহাবি বললেন, ‘খাবার প্রস্তুত করো। বাতি জ্বালো। সন্তানেরা খেতে চাইলে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও।’
বাতি ঠিক করার ভান করে সেটি নিভিয়ে দিলেন। অন্ধকারে স্বামী-স্ত্রী এমনভাবে বসে রইলেন, যেন তারা নিজেও খাচ্ছেন। আসলে খেলেন শুধু অতিথি একাই। তাঁরা দুজন ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত পার করলেন। সকালে ওই সাহাবি নবীজির কাছে এলে তিনি বললেন, ‘গত রাতে তোমাদের দুজনের কাজে আল্লাহ হেসেছেন’। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটেই সুরা হাশরের নবম আয়াত নাজিল হয়।
এ ঘটনায় স্ত্রীর ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে খাবার কত অল্প, তা তিনি স্বামীকে সরাসরি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাস্তবতা তাঁকে অতিথি আপ্যায়ন থেকে বিমুখ করেনি। তিনি বরং স্বামীর সিদ্ধান্তে সম্মত হন এবং সন্তানদের ক্ষুধার্ত রেখে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। সংসারের সংকট অনেক সময় অভাবের কারণে নয়, বরং পারস্পরিক সমঝোতার অভাবে বড় হয়ে ওঠে। স্বামী-স্ত্রী যখন কল্যাণকর কাজে একমত হন, তখন সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বড় কাজ করা সম্ভব।
"তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও নিজেরা অভাবগ্রস্ত।" — সুরা হাশর, আয়াত: ৯
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনসার সাহাবিদের বাসভবন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৯৮)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনসার সাহাবি দম্পতি (স্বামী ও স্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সুরা হাশর, আয়াত: ৯; সুরা নিসা, আয়াত: ১৯; সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!