📌 সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে অগণিত। মাদক অপরাধে শুধু ২০১৪-২৫ সালের মধ্যে ৫৯৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার ৭৫% প্রবাসী। ইথিওপীয়দের ঘটনা দেখিয়ে মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও লাশ পরিবারের হাতে আসে না
সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে অগণিত। মাদক অপরাধে শুধু ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৫৯৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশ প্রবাসী। এদেশে মৃত্যুদণ্ডের শিকারদের মধ্যে ইথিওপীয়দের ঘটনা বিশেষভাবে হৃদয়বেদনাকর। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও তাদের লাশ পরিবারের হাতে ফিরে আসে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে ২০১৪-২৫ সালের মধ্যে মাদক অপরাধে ৫৯৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, যার ৭৫% প্রবাসী
- 📌 ইথিওপীয় বন্দীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও সপ্তাহ পর সপ্তাহ গেলেও লাশ পরিবারের হাতে আসেনি
- 📌 সৌদি আরবে মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ (১ কোটি ৫৭ লাখ) প্রবাসী, কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের শিকারদের মধ্যে প্রবাসীদের অনুপাত বেশি
- 📌 ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন (৫৪ শতাংশ) প্রবাসী
- 📌 সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের শিকারদের মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকের সংখ্যা সৌদি নাগরিকের সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে
- 📌 সৌদি আরবে কাফালা ব্যবস্থা প্রবাসীদের শোষণ করে, বিচারের আগেই তাদের বিপন্নতা শুরু হয়
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মাদক অপরাধেই ৫৯৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রবাসী। এছাড়া, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন (৫৪ শতাংশ) প্রবাসী। এদের মধ্যে মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ৭১ জনের মধ্যে ৪৯ জন প্রবাসী।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের শিকারদের মধ্যে ইথিওপীয়দের ঘটনা বিশেষভাবে হৃদয়বেদনাকর। একটি ঘটনায় ইথিওপীয় বন্দীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও সপ্তাহ পর সপ্তাহ গেলেও তার লাশ পরিবারের হাতে আসেনি। এই ঘটনায় বন্দীর মাকে ফোন করে বলা হয়েছিল, পরদিন সকালে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু সেদিনই তার শেষ নিশ্বাস। ঘটনাটি শুনে মায়ের মধ্যে তীব্র মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মনোরোগ বিভাগে ভর্তি করতে হয়।
সৌদি আরবে মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ (১ কোটি ৫৭ লাখ) প্রবাসী। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের শিকারদের মধ্যে প্রবাসীদের অনুপাত বেশি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত দশকে শুধু মাদক অপরাধে ১৫০ জন সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি ১৫৫ জন পাকিস্তানি, ৬৬ জন সিরীয়, ৫০ জন জর্ডানি, ৩৯ জন ইয়েমেনি, ৩৩ জন মিসরীয়, ৩২ জন নাইজেরীয়, ২২ জন সোমালীয় ও ১৩ জন ইথিওপীয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এছাড়া ইরান, আফগানিস্তান, চাদ, বাহরাইন, লেবানন, সুদান, তুরস্ক, ভারত ও ফিলিস্তিনের নাগরিকদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
সৌদি আরবে কাফালা ব্যবস্থা প্রবাসীদের শোষণ করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর বিশেষভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রবাসীদের অসুবিধা শুরু হয় নিজ দেশে, প্রতারণামূলক নিয়োগপদ্ধতিতে এবং সৌদি আরবে এসে তা ধরে রাখে কাফালা ব্যবস্থা।
"ওরা শুধু আমাদের ভাইদের মারছে না, আমাদেরও মারছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব, লন্ডন (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইথিওপীয় বন্দী ও তার মা, সৌদি আরবের প্রবাসী শ্রমিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯৭ জন (মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), ৭৫% (প্রবাসী), ১০৮ জন (২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), ৫৯ জন (প্রবাসী), ৩ কোটি ৫৩ লাখ (সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা), ১ কোটি ৫৭ লাখ (প্রবাসী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!