📌 বলিউডের রামায়ণ চলচ্চিত্রে এ আর রহমানের সুরারোপিত কাওয়ালি গান ‘মঙ্গল রং’ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ধর্মীয় মহাকাব্যের সঙ্গে সুফি ধাঁচের গানের মিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
বলিউডের বহুল প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এর নতুন গান ‘মঙ্গল রং’ প্রকাশের পর সুরকার এ আর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই গানটি রামচন্দ্র ও সীতার মিলনের আবহ তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও, এর সুরের ধরন নিয়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এই গানে সুর দিয়েছেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান এবং কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ সিং ও শ্রেয়া ঘোষাল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রামায়ণ চলচ্চিত্রে কাওয়ালি গানের সুর প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
- 📌 এ আর রহমানের সুরকে ‘রিসাইকেল’ করার অভিযোগ তুলেছেন নেটিজেনরা।
- 📌 গানটি শুনে অনেকের মনে এ আর রহমানের পূর্ববর্তী সিনেমা ‘রকস্টার’, ‘যোধা আকবর’ বা ‘কুন ফায়া কুন’-এর সুরের স্মৃতি জাগে।
- 📌 রামায়ণ চলচ্চিত্রের মূল সংগীত পরিচালক হিসেবে এ আর রহমানের পছন্দকে ‘হতাশাজনক’ বলে সমালোচনা করেছেন একজন ব্যবহারকারী।
- 📌 ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে এই চলচ্চিত্র।
📰 বিস্তারিত
রামায়ণ চলচ্চিত্রে ‘মঙ্গল রং’ গানটি প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। গানটির সুরের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, একটি পবিত্র ধর্মীয় মহাকাব্যের গল্পের সঙ্গে কাওয়ালি ধাঁচের গানের মিল কতটুকু উপযুক্ত। একজন ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বাল্মীকির রামায়ণে সুফি কাওয়ালির ভাব আনা বলিউড মানসিকতার চরম অসংলগ্নতা নির্দেশ করে। এখানে সাংস্কৃতিক শেকড় বা গবেষণার কোনো উপস্থিতি নেই; শুধু বিশাল বাজেটের ওপর পুরোনো সুরের ছাঁচ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র ইতিহাসকে শুক্রবারে মুক্তি পাওয়া সাধারণ রোমান্টিক কমেডি সিনেমার মতো ভাবা বন্ধ করা উচিত।’
অনেকের মতে, এই গানের সুরের মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, ‘রামায়ণ সিনেমার জন্য তামিল সিনেমার পুরোনো কাওয়ালির সুর উপহার দেওয়ার জন্য এ আর রহমানকে ধন্যবাদ!’ অন্যরা বলেছেন, ‘রামায়ণে কাওয়ালি! হতাশ করতে এ আর রহমান কখনোই ব্যর্থ হন না।’
এ আর রহমানের এই সুর নির্বাচনকে সরাসরি প্রশ্ন করে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এ আর রহমান, আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’ গানের সুরের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি কি পুরোনো কাজের পুনর্ব্যবহার? একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, ‘গানটি শুনতে একেবারেই কাওয়ালির মতো লাগছে, এটি তাঁর পূর্ববর্তী “রকস্টার” বা “যোধা আকবর”-এর গান এমনকি “কুন ফায়া কুন”-এর সুরের কথা মনে করিয়ে দেয়। “ছাবা” সিনেমাতেও তিনি একই ধরনের কাজ করেছিলেন।’
এ আর রহমানকে এই চলচ্চিত্রের মূল সংগীত পরিচালক হিসেবে নির্বাচন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, ‘অত্যন্ত হতাশাজনক! এই চলচ্চিত্রের জন্য এ আর রহমান ছিলেন সবচেয়ে ভুল পছন্দ। গানটি শুনতে একেবারেই কাওয়ালির মতো লাগছে, এটি তাঁর পূর্ববর্তী “রকস্টার” বা “যোধা আকবর”-এর গান এমনকি “কুন ফায়া কুন”-এর সুরের কথা মনে করিয়ে দেয়। অজয়-অতুল কিংবা শংকর-এহসান-লয় জুটি এই সিনেমার সংগীতের সঙ্গে বেশি ন্যায়বিচার করতে পারতেন।’
"বাল্মীকির রামায়ণে সুফি কাওয়ালির ভাব আনা বলিউড মানসিকতার চরম অসংলগ্নতা নির্দেশ করে। এখানে সাংস্কৃতিক শেকড় বা গবেষণার কোনো উপস্থিতি নেই; শুধু বিশাল বাজেটের ওপর পুরোনো সুরের ছাঁচ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বলিউড (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ আর রহমান, অরিজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল, নিতেশ তিওয়ারি, রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নভেম্বর (মুক্তির তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!