📌 সৌদি আরবে আকামা মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কর্মসংস্থান ব্যয় কমাতে এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে
সৌদি আরবে আকামা মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রবেশের সুযোগ খোলা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আজ সোমবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই তথ্য ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পেরে যেসব কর্মীর আকামা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের প্রবেশের অনুমতি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন আকামা মেয়াদ শেষ বাংলাদেশি কর্মীরা** — স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
- 📌 **রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে** — সরকার ও এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী বলেন।
- 📌 **অভিবাসন ব্যয় কমাতে আহ্বান** — মন্ত্রী বলেন, যে কাজে তিন লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার আহ্বান জানানো হয়।
- 📌 **বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালু** — কর্মীদের প্রক্রিয়া সহজকরণ এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে।
- 📌 **সৌদিতে বন্দী বাংলাদেশিদের মুক্তির আহ্বান** — প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশটির সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
- 📌 **সৌদি রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ** — সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
- 📌 **রিক্রুটিং এজেন্সির দাবি** — তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো এবং বিএমইটির জটিলতা নিরসনের দাবি জানান এজেন্সির প্রতিনিধিরা।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পেরে যেসব বাংলাদেশি কর্মীর আকামা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁরা পরবর্তী সময়ে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এই কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে বলেন, সরকার ও এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যে কাজে তিন লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যয় বেশি হলে সেই টাকা জোগাড় করতেই কর্মীদের অনেক সময় পার হয়ে যায়।
মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশগামী কর্মীদের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। তিনি বলেন, যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ই-মেইল সেবা চালু ও তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদিতে বন্দী বাংলাদেশিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশটির সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা জানিয়ে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা।
"যে কাজে তিন লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার আহ্বান জানিয়ে বলছি, অভিবাসন ব্যয় বেশি হলে সেই টাকা জোগাড় করতেই কর্মীদের অনেক সময় পার হয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ ইস্কাটন, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিন লাখ টাকা, সাত থেকে আট লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!