📌 মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের ভিসা রিনিউ ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে কষ্ট হচ্ছে। ৮০ হাজার টাকা খরচে নেপালি শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাতায়াত খরচ ৫-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়ে। বেতন ১৭০০ রিঙ্গিতেও খরচ মিটাতে পারছেন না তারা
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন কষ্টের মধ্যে রূপ নিচ্ছে। ভিসা রিনিউ খরচ, দালালি ও নিম্ন বেতনের কারণে তারা দৈনন্দিন খরচ মিটাতে পারছেন না। সারাবাংলা প্রতিবেদককে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে কর্মরত আবু তাহের বলেছেন, ‘প্রতিবছর ভিসা রিনিউ করতে ছয় হাজার রিঙ্গিত লাগে, কিন্তু মাসে বেতন পাই মাত্র ১৭০০ রিঙ্গিত। বাংলাদেশ থেকে আসতে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন কি দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারব?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের ভিসা রিনিউ খরচ**: প্রতিবছর ছয় হাজার রিঙ্গিত (৫১-৫২ হাজার টাকা) লাগে, যা মাসিক বেতন ১৭০০ রিঙ্গিতের (৫১-৫২ হাজার টাকা) চেয়ে বেশি
- 📌 **বাংলাদেশি vs নেপালি শ্রমিকদের খরচ**: নেপালি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে খরচ হয় মাত্র ৮০ হাজার টাকা, কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের ৫-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে
- 📌 **দালালি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ**: বাংলাদেশ থেকে যাতায়াতের প্রকৃত খরচ ৬০ হাজার টাকা হলেও, দালাল ও এজেন্সির কারণে খরচ বেড়ে ৬-৮ লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়
- 📌 **বাংলাদেশি শ্রমিকদের অ্যাম্বাসি পরিস্থিতি**: বিপদে পড়লে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অ্যাম্বাসি সাহায্য করে না, কিন্তু নেপালি, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারি শ্রমিকদের সাহায্য করা হয়
- 📌 **বেতন ও রেমিট্যান্সের সমস্যা**: মাসিক ১৭০০ রিঙ্গিত বেতনে খরচ মিটিয়ে ভিসা রিনিউ করা সম্ভব নয়, ফলে অনেকেই অবৈধ হয়ে পালিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন কষ্টের মধ্যে রূপ নিচ্ছে। কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে কর্মরত আবু তাহের সারাবাংলাকে বলেছেন, ‘প্রতিবছর ভিসা রিনিউ করতে ছয় হাজার রিঙ্গিত লাগে, কিন্তু মাসে বেতন পাই মাত্র ১৭০০ রিঙ্গিত। বাংলাদেশ থেকে আসতে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন কি দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারব?’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও খাওয়ার খরচ মিটাতে কষ্ট হচ্ছে। থাকার খরচ মালিক দেয়, কিন্তু খাওয়ার জন্য নিজে খরচ করতে হয়।’
মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় সবারই এমন অভিযোগ। জানা গেছে, নেপালের শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে খরচ হয় মাত্র ৮০ হাজার টাকা, কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের ৫-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে। অথচ দুই দেশের শ্রমিকদের বেতন একই। মালয়েশিয়ায় ঢোকার পর সব শ্রমিকের বেতন শুরু হয় এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত দিয়ে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫১-৫২ হাজার টাকা।
কুমিল্লার আরাফাত হোসেন কাজল, যিনি বুকিত বিনতাংয়ে একটি খাবারের হোটেলে কাজ করেন, সারাবাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিপদে পড়লে অ্যাম্বাসিতে জানানোর পরও কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। কিন্তু নেপালি, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাই শ্রমিকরা যেকোনো বিপদে পড়লেই অ্যাম্বাসি এসে হাজির হয়। তারা মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবাদ জানায়। ফলে ওইসব দেশের শ্রমিকরা আলাদা একটা মর্যাদা পায়। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের শত বিপদেও অ্যাম্বাসির কাউকে পাশে পাওয়া যায় না।’
নরসিংদীর আব্দুল আজিজ, যিনি কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে সাউথ ইন্ডিয়ান প্রবাসীদের খেলনার দোকানে কাজ করেন, বলেছেন, ‘শুনতাছি মালয়েশিয়া সরকার নতুন করে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনবে। কিন্তু খরচ কমাতে হবে। না হলে এখানে যে বেতন-ভাতা পাওয়া যায়, তা দিয়ে দৈনন্দিন খরচ মিটিয়ে নতুন করে প্রতিবছর ভিসা রিনিউ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকে অবৈধ হয়ে পালিয়ে বেড়ায়। আবার অনেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেল খাটে। কিন্তু ওই সময় অ্যাম্বাসি থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।’
বাংলাদেশ থেকে যত শ্রমিক যায়, তার বেশিরভাগই পাম বাগানে কাজ করেন। তবে বেতন আশানুরূপ না হওয়ায় খুব বেশি পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনতে পারছেন না তারা। প্রবাসী শ্রমিকদের দাবি, কোম্পানি যদি সব খরচ বহন করে, তাহলে খরচ অনেক কমে যেত। তাই সরকারের মনিটরিং জরুরি। তবে এজেন্সিগুলো নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর জন্য খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এবার খরচ ছয় থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত পড়তে পারে বলে জানা গেছে।
"আমি কত টাকা দেশে পাঠাতে পারব? বাংলাদেশ থেকে আসতে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবছর ভিসা রিনিউ করতে ছয় হাজার রিঙ্গিত লাগে, কিন্তু মাসে বেতন পাই মাত্র ১৭০০ রিঙ্গিত।" — আবু তাহের, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া), ঢাকা, কুমিল্লা (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু তাহের, আরাফাত হোসেন কাজল, আব্দুল আজিজ, এনামুল হক শামীম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ হাজার টাকা (নেপালি শ্রমিকদের খরচ), ৫-৮ লাখ টাকা (বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ), ৬০ হাজার টাকা (প্রকৃত খরচ), ১৭০০ রিঙ্গিত (মাসিক বেতন), ৬ হাজার রিঙ্গিত (ভিসা রিনিউ খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!