📌 কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাঁচ হাজার ডলারে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পাচারকারীরা পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার পর তরুণদেরকে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করত। পরিবাররা মুক্তিপণ দিলেও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি।
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, পাচারকারীরা তরুণদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার পর জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করত। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বা সামান্য ভুল হলে নির্যাতন করা হতো। পরিবাররা মুক্তিপণ দিলেও তাদেরকে আবার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দেশে ফেরার টিকিটের টাকা আদায় করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি: কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাঁচ হাজার ডলারে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দিয়েছিল।
- 📌 পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া: পাচারকারীরা তরুণদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার পর তাদেরকে স্ক্যাম সেন্টারে বন্দী রাখত।
- 📌 জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজ: স্ক্যাম সেন্টারে তরুণদেরকে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জোরপূর্বক নিয়োজিত করা হতো। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বা ভুল হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
- 📌 মুক্তিপণ দাবি: পরিবাররা পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দিলেও তরুণদেরকে আবার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দেশে ফেরার টিকিটের টাকা আদায় করা হয়।
- 📌 গ্রেপ্তার দু’জন: সিআইডি মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের সদস্য মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬) গ্রেপ্তার করেছে।
- 📌 গাজীপুরের বাসিন্দা: গ্রেপ্তার দু’জন গাজীপুরের পুবাইল এলাকার বাসিন্দা।
- 📌 আইনগত কার্যক্রম চলছে: গ্রেপ্তার দু’জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ২২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনের আশায় মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান ওই দুই তরুণ। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই ওই দুই তরুণের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাঁদের একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হতো। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বা নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগও ছিল না তাঁদের। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন ওই দুই তরুণ। তখন তাঁদের মুক্তির জন্য স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় পরিবারের সদস্যরা সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন। তবে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। মানবপাচারকারীরা আবারও তাঁদেরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। দেশে ফেরার বিমান টিকিটের টাকাও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়।
বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ ও দেশে ফেরার টিকিটের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে ওই দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তায় তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাংলাদেশে ফেরেন।
"কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই ওই দুই তরুণের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাঁদের একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ (গাজীপুরের পুবাইল এলাকা), রাজধানীর পল্টন এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শাওন মোল্লা (২৩), মো. সাকিব সরকার (২৬), দু’জন পাচারিত তরুণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার মার্কিন ডলার (মুক্তিপণ), ২ জন গ্রেপ্তার, ২৩ বছর (শাওন), ২৬ বছর (সাকিব), ৬ লাখ টাকা (প্রতি তরুণকে নেওয়া), ৩ সেপ্টেম্বর (বাংলাদেশে ফিরে আসা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!