📌 কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুই বাংলাদেশি তরুণকে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে স্ক্যাম সেন্টারে নির্যাতনের শিকার করেছিল। পাচারকারীদের বাড়ি গাজীপুরের পূবাইল এলাকায়।
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা দুই বাংলাদেশি তরুণকে ভালো চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি করে স্ক্যাম সেন্টারে নির্যাতনের শিকার করেছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টন থানায় অভিযান চালিয়ে মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে। উভয় পাচারকারী গাজীপুরের পূবাইল এলাকার বাসিন্দা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি: কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর দুই বাংলাদেশি তরুণকে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয়।
- 📌 মানবপাচার চক্রের দু’জন গ্রেপ্তার: সিআইডি মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে।
- 📌 ৬ লাখ টাকা খরচ: প্রত্যেক তরুণকে পরিবার থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রায় ছয় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 দু’মাস হোটেলে বন্দি: মুক্তি পাওয়ার পরও পাচারকারীরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় এবং দেশে ফেরার টিকিটের টাকা আদায় করে।
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন: দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সহায়তায় তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
📰 বিস্তারিত
দু’জন তরুণকে ভালো চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রত্যেককে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয়। সেখানে তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হতো। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বা সামান্য ভুল করলেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। নিজেদের ইচ্ছায় বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ ছিল না।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন তারা। তখন স্ক্যাম সেন্টার থেকে তাদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার মুক্তিপণ প্রদানের পর তাদের মুক্তি দেয়া হলেও, পাচারকারীরা আবার তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এমনকি দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের টাকাও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়। বিদেশে যাওয়ার খরচ, মুক্তিপণ ও দেশে ফেরার টিকিটের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে তারা প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সহায়তায় তারা দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। গত ৩ সেপ্টেম্বর তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় গত সোমবার পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে এবং মামলাটি পল্টন থানার ২২ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
"বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনের আশায় মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান ওই দুই তরুণ। তাদের প্রত্যেককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কম্বোডিয়া, গাজীপুরের পূবাইল, পল্টন থানা (ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শাওন মোল্লা (২৩), মো. সাকিব সরকার (২৬), দুই বাংলাদেশি তরুণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার মার্কিন ডলার, ৬ লাখ টাকা, ২৭ অক্টোবর, ৩ সেপ্টেম্বর, ২২ নম্বর মামলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!