📌 'অর্ণব' নামের ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে এবং হাজারো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়ও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে
ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়ের দাপটে উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে, যা সর্বোচ্চ গতি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
- 📌 ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও দক্ষিণ ওড়িশায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে, বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং জাতীয় সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে।
- 📌 তিনটি বিমানবন্দর ও বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু ঘোষণা করেছেন, প্রায় ২০০০ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে এবং গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
- 📌 পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের ১২ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চার জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
- 📌 আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মধ্যরাতের দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়ের কেন্দ্রস্থল বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল ও ইয়ানামের দক্ষিণে অবস্থিত। ঝড়ের গতিবেগ প্রথমে ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। মৌসুম ভবনের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে চার ঘণ্টা সময় লাগবে।
ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত গাছগুলো সরানোর ব্যবস্থা করছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে এবং উপকূল এলাকা থেকে বহু মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টির প্রভাব দেখা দিয়েছে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের ১২ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চার জেলায় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম) ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
"ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অন্ধ্রপ্রদেশ (ইয়ানাম, পুদুচেরী, কাকিনাড়া), পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চন্দ্রবাবু নায়ডু (অন্ধ্রপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ কিলোমিটার (ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ), ২০০০+ (আশ্রয়কেন্দ্র), ৪০-৫০ কিলোমিটার (পশ্চিমবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার বেগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!