📌 সাতক্ষীরার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচে লেবাননে গিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর কফিনে ফিরে আসেন। পরিবারকে সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশা রয়েছে
সাতক্ষীরার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাসের পরিবার ঋণের বোঝা মেটাতে লেবাননে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর কফিনে ফিরে আসেন। গত ১১ মে লেবাননের ইসরায়েল সীমান্তবর্তী মাইফাদুন এলাকায় কর্মস্থলে হামলায় শুভ নিহত হন। প্রায় চার মাস পর আজ রোববার সকালে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচে লেবাননে গিয়েছিলেন শুভ কুমার দাস, প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা পাঠাতেন বাংলাদেশে
- 📌 ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ১১ মে মাইফাদুন এলাকায় নিহত হন শুভ, মরদেহ ১৩ মে উদ্ধার করা হয়
- 📌 পরিবার থেকে আবেদনের পর বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কফিনে ফিরে আসেন শুভ, খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছে
- 📌 বৈধ পথে ২০২৩ সালের পর বিদেশে যাওয়ার কারণে শুভর পরিবার ১৩ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন, যদি নিবন্ধন যাচাই হয়
- 📌 সাতক্ষীরা উপজেলা প্রশাসন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়
📰 বিস্তারিত
শুভ কুমার দাসের পরিবার সংসারের অভাব মেটাতে ঋণ নিয়ে লেবাননে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁকে বিদেশে পাঠাতে বাবা সুরঞ্জন দাস জমি বিক্রি এবং চার লাখ টাকা ঋণ নেন। শুভ প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা পাঠাতেন, যা পরিবারের খরচ, ঋণের কিস্তি এবং সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত হত। শুভের বড় ছেলে শান্তি দাস বিয়ে করে আলাদা থাকেন, মেয়ে সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে সুদীপ দাস স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েন।
শুভের মা শিখা রানী দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুভ বিয়ে না করেই লেবাননে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ফেরাতে। আমি ভাবতাম, আর কিছুদিন থাকার পর দেশে নিয়ে এসে বিয়ে দেব। কিন্তু ভগবান আমাদের সুখ সহ্য করতে পারলেন না।’ শুভের সর্বশেষ কথা পরিবারের সঙ্গে ১০ মে রাতে হয়। ১২ মে দুপুরে মুঠোফোনে তাঁরা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান। লেবাননের সেনাবাহিনী ও রেডক্রসের সহায়তায় ১৩ মে শুভের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় শুভর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান জানান, শুভ বৈধ পথে ২০২৩ সালের পর বিদেশে গিয়ে থাকলে ১৩ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন। তবে ২০২৩ সালের আগে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ হবে ৩ লাখ টাকা। শুভর বিএমইটি নিবন্ধন ও বিদেশ যাওয়ার তথ্য যাচাই করা হবে।
"সংসারের হাল ফেরাতে গিয়ে বিয়ে না করেই লেবাননে গিয়েছিল শুভ। ভেবেছিলাম, আরও কিছুদিন থাকার পর দেশে নিয়ে এসে শুভকে বিয়ে দেব। ভগবান বুঝি আমাদের সুখ সহ্য করতে পারলেন না। তাই এভাবে আমার ছেলেটাকে কেড়ে নিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরার শ্রীপতিপুর গ্রাম, লেবাননের মাইফাদুন (ইসরায়েল সীমান্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভ কুমার দাস, সুরঞ্জন দাস, শিখা রানী দাস, সাধনা দাস, সুদীপ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ হাজার টাকা (মাসিক পাঠানো), ১১ মে (মৃত্যু), ৮৫ হাজার টাকা (সহায়তা), ১৩ লাখ টাকা (সহায়তার পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!