📌 বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গেছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিবন্ধিত সাব-এজেন্ট এবং জবাবদিহির দাবি উঠেছে
বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। অভিবাসন ব্যয় ও প্রতারণা কমাতে সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় কর্মীরা নির্ভরযোগ্য এজেন্সি নির্বাচনে অসুবিধা ভোগ করছেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং সাব-এজেন্টদের নিবন্ধন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আজ উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি সংলাপে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু না হলে** রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা সম্ভব হয়নি, ফলে কর্মীরা নির্ভরযোগ্য এজেন্সি নির্বাচনে অসুবিধা ভোগ করছেন।
- 📌 **চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত** বিদেশে গেছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম।
- 📌 **২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়** ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবে অভিযোগ ও প্রতারণার ঘটনা কমেনি।
- 📌 **সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার** এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি, ফলে কর্মীরা প্রতিনিধিদের পরিচয় যাচাই করতে পারছেন না।
- 📌 **৭৩ শতাংশ কর্মী** সৌদি আরবে চাকরি পাচ্ছেন, যা অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
- 📌 **অভিযোগের নিষ্পত্তি** হয়েছে মাত্র ৭৮৫টি, যার মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, বিদেশে চাকরি নিতে আগ্রহী নিজের এলাকার মানুষকেও কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সুপারিশ করতে পারেন না। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হলেও এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার সুবিধাও এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। ভবিষ্যতে এজেন্সিগুলোকে তাদের প্রতিনিধিদের তালিকা জমা দিতে হবে এবং তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এতে কর্মীরা টাকা দেওয়ার আগে প্রতিনিধির পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। তিনি গ্রামপর্যায়ে অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে তথ্য ও কর্মী-তথ্যভান্ডারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমেছে। উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী জানান, এ সময়ে বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
পারভেজ সিদ্দিকী আরও বলেন, একজন কর্মীর নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয় তুলে আনতে গড়ে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। এ খাতে ১ হাজার ৪১৪টি অভিযোগের মধ্যে ৭৮৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক কর্মীর কাছে অর্থ পরিশোধের রসিদ বা প্রমাণ না থাকায় মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক অভিযোগ করেন, অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি অর্থ আদায় করলেও রসিদ দেয় না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় দায় নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে ভিসা কেনাবেচার অভিযোগও তোলেন তিনি। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম বলেন, ২০২০ সালে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসের ব্যবস্থা চালু করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আইনে সাব-এজেন্টদের স্বীকৃতি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নিবন্ধিত মধ্যস্থতাকারীদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেন।
"বিদেশে চাকরি নিতে আগ্রহী নিজের এলাকার মানুষকেও কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সুপারিশ করতে পারেন না। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলেও এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল হক নূর (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী), পারভেজ সিদ্দিকী (উইটনেস ফাউন্ডেশন), সৈয়দ সাইফুল হক (ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন), কাজী আবুল কালাম (প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব), ফরিদা ইয়াসমিন (সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ শতাংশ (কমে গেছে কর্মী সংখ্যা), ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন (চলতি বছরের কর্মী), ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২ জন (গত বছরের কর্মী), ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার (প্রবাসী আয়), ১৪ মাস (অভিযোগ নিষ্পত্তি সময়), ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা (ফেরত দেওয়া অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!