📌 বৃদ্ধা তার মুরগিগুলো হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। প্রতিবেশীরাও একই ক্ষতির শিকার। ক্ষোভে ফেটে পড়ে যুবক মিহির, প্রতিজ্ঞা করে বাঘদাশকে খতম করবে। গ্রামবাসীদের উদাসীনতা সত্ত্বেও নিজেই গড়ে তোলে প্রতিশোধের দল
রাতের শেষ প্রহরে হঠাৎ করেই একটা অস্বাভাবিক শব্দ কানে আসে বৃদ্ধার। ঘুমের ঘোরে তা উপেক্ষা করলেও পরক্ষণেই ঘটে বিপর্যয়। উঁচু টং থেকে লাফ দিতে গিয়ে বাঘদাশের ঘাড়ের কাছে দাঁতের সাঁড়াশি আলাদা হয়ে যায়, আর সেই সামান্য অবকাশেই মরণপণ চিৎকারে জেগে ওঠে বৃদ্ধা। অন্ধকার ঘরে ছটফট করতে থাকা বৃদ্ধা শেষ পর্যন্ত কুপিটি জ্বালিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দরজা খুলতেই পালকের ছড়াছড়ি দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সে। ভোরবেলা পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বৃদ্ধার কান্না শুনে থেমে যায় মিহির। ঘটনা শুনে বৃদ্ধার কান্না পরিণত হয় বিলাপে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বৃদ্ধার মুরগিগুলো রাতে নিয়ে যায় বাঘদাশ নামের এক হিংস্র প্রাণী
- 📌 প্রতিবেশী কলমীর মা জানায়, পরশু রাতে তাদের খোঁয়াড় থেকেও দুটি মুরগি হারিয়েছে
- 📌 মিহির নামের যুবক বৃদ্ধার কান্নায় বিচলিত হয়ে প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করে
- 📌 গ্রামবাসীদের উদাসীনতার মুখে নিজেই গড়ে তোলে প্রতিশোধের দল
- 📌 মোল্লাবাড়ির রহমান মোল্লার বড় বউয়ের সামনেই পালিয়ে যায় বাঘদাশ
📰 বিস্তারিত
বৃদ্ধার জীবিকা ছিল মুরগি পালন ও বিক্রি। রাতে হঠাৎ করেই ঘটে বিপর্যয়। উঁচু টং থেকে লাফ দিতে গিয়ে বাঘদাশের ঘাড়ের কাছে দাঁতের সাঁড়াশি আলাদা হয়ে যায়, আর সেই সামান্য অবকাশেই মরণপণ চিৎকারে জেগে ওঠে বৃদ্ধা। অন্ধকার ঘরে ছটফট করতে থাকা বৃদ্ধা শেষ পর্যন্ত কুপিটি জ্বালিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দরজা খুলতেই পালকের ছড়াছড়ি দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সে। ভোরবেলা পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বৃদ্ধার কান্না শুনে থেমে যায় মিহির। ঘটনা শুনে বৃদ্ধার কান্না পরিণত হয় বিলাপে।
প্রতিবেশী কলমীর মা জানায়, পরশু রাতে তাদের খোঁয়াড় থেকেও দুটি মুরগি হারিয়েছে। বৃদ্ধার মতো তিনিও ক্ষতির সম্মুখীন। মিহির নামের যুবক বৃদ্ধার কান্নায় বিচলিত হয়ে প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করে। তার নিজের জীবনেও রয়েছে অভাবের ছাপ। ছোটবেলায় পিতৃমাতৃহীন মিহিরকে মানুষ করেছিল এক দূরসম্পর্কের খালা। চার-পাঁচ বছর না পেরোতেই তাকে আশ্রয় ছাড়তে হয়। গত চার-পাঁচ বছর ধরে সে থাকছে রহিম শেখের চালাবাড়িতে।
গ্রামবাসীদের উদাসীনতার মুখে নিজেই গড়ে তোলে প্রতিশোধের দল। হাটখোলার দক্ষিণে ভাঙা পুকুরঘাটে যুবকদের আড্ডায় ঘটনাটি জানালেও কেউ গুরুত্ব দেয় না। মোল্লাবাড়ির মোটাসোটা মনা বলে, ‘বাদ দাও এসব প্ল্যান, আধুনিক যুগে বাঘদাশ মারা হাস্যকর হবে।’ লম্বামুখো শহিদ প্রশ্ন তোলে, ‘তুমি কি গুনে দেখেছ, কটা?’ আরেকজন বলে, ‘তোমার পরিকল্পনা দেখি বাঘা বাঘা শিকারিকেও হার মানাবে।’
মিহির দমে না গিয়ে বিস্তৃতভাবে বুঝিয়ে দেয় পরিকল্পনা। সেদিনই পড়ন্ত বিকেলে মোল্লাবাড়ির রহমান মোল্লার বড় বউয়ের চোখের সামনেই পালিয়ে যায় বাঘদাশ। ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসী। গোটা দশেক বর্শা জোগাড় করে তারা। বাপ একসময় লাঠিয়াল ছিল বলে চালা থেকে পুরোনো ভারী বর্শাটা নামিয়ে আনে মজাহার। বর্শা না পেয়ে কেউ কেউ মাছ ধরার কোঁচও নেয়, কারও হাতে মুগুর বা লাঠি। বেশ বড়সড় হয়ে যায় দলটা। সারা গ্রামে যেন যুদ্ধ আয়োজন।
"তুমি কি গুনে দেখেছ, কটা?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রামীণ এলাকা (হাটখোলা ও মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বৃদ্ধা, মিহির, কলমীর মা, মোল্লাবাড়ির রহমান মোল্লা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫ বছর (মিহিরের জীবনে অভাবের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!