📌 যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ৬টি প্রতিবন্ধী স্কুলের এমপিও আবেদন করা হলেও সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্কুলের কার্যক্রম বা অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় নেতারা নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় কাগজে-কলমে কার্যক্রম সচল দেখিয়ে ৬টি প্রতিবন্ধী স্কুলের এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। তবে সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, বাস্তবে অধিকাংশ স্কুলের কোনো কার্যক্রম বা অস্তিত্বই নেই। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত দল এই চিত্র দেখে হতবাক হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ যেন ‘কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’-এর মতোই অবস্থা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬টি প্রতিবন্ধী স্কুলের এমপিও আবেদন করা হলেও বাস্তবে ৫টি স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ বা অস্তিত্ব নেই
- 📌 ২০১৯ সালে এনজিওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে স্কুলগুলো সরাসরি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়
- 📌 ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলাম ২০-২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ
- 📌 ১২ জন শিক্ষক নিয়োগের পরেও কোনো শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও স্কুলের অবকাঠামো চকচকে রয়েছে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামক এনজিওর মাধ্যমে চৌগাছা উপজেলায় ৬টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১টি এনডিডি (স্নায়ু ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী) এবং ৫টি নন-এনডিডি শ্রেণির স্কুল রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ১৫ থেকে ২৮ জন পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে এনজিওটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর স্কুলগুলো সরাসরি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পাশাপোল বাজারের পাশে প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ মতিউর রহমান অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুল’-এ ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল ইসলামের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ বাণিজ্য করে তিনি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের নগরবর্ণি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুজ্জামান সাগর জানিয়েছেন, ‘আপাতত স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা সবাই অন্য পেশায় যোগদান করেছেন।’
হাকিমপুর ইউনিয়নের স্বরূপপুরে প্রতিষ্ঠিত স্বরূপপুর অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে স্কুলের চকচকে অবকাঠামো সত্ত্বেও কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রধান শিক্ষক মহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘স্কুল প্রতিষ্ঠাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের হাত ধরে ডোনেশন দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ করা হয়।’
"প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নামে আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও বর্তমানে এ সকল স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যেন দেখার কেউ নেই।"
পৌর শহরের ইছাপুর মাঠপাড়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। প্রধান শিক্ষক তুহিন উদ্দীন জানিয়েছেন, ‘২০২২ সালে এমপিও আবেদন করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম বজলুর রহমান বলেছেন, ‘৬টি স্কুলের কার্যক্রম যাচাই করতে তদন্তে গিয়ে অধিকাংশ স্কুলের অস্তিত্ব বা কার্যক্রমের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চৌগাছা উপজেলা, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওবায়দুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান সাগর, মহিদুল ইসলাম, তুহিন উদ্দীন, এস এম বজলুর রহমান, ফারজানা ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬টি স্কুল, ২৪ জন শিক্ষক, ২০-২৫ লাখ টাকা, ১২ জন শিক্ষক, ২৬ জন শিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!