📌 বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় নির্মিত ৭ কোটি টাকার সেতু দেড় বছর পরও চালু হয়নি। জমি মালিকানা বিরোধের কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, সেতু চালু না হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে বড় বাধা পড়ছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ৭ কোটি টাকার সেতু দেড় বছর ধরে চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেতুটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হতে পারছে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ কোটি টাকার সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দেড় বছর পরও চালু হয়নি
- 📌 উত্তর ধামুরা খালের ওপর নির্মিত ৪৪ মিটার দীর্ঘ সেতু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ শেষ হলেও সড়ক সংযোগের জমি বিরোধে কাজ আটকে
- 📌 জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধ সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক ও ভূমি অফিসের যাচাই করা হয়েছিল প্রকল্পের আগে
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেতুতে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পথচারীরা চলাচল করছেন কিন্তু যানবাহন চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই
- 📌 উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সান্টু মোল্লা বলেছেন, সেতু চালু হলে এক লাখেরও বেশি মানুষের যাতায়াত সুবিধা হবে
📰 বিস্তারিত
উজিরপুর উপজেলার উত্তর ধামুরা খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ছিল ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেতুটি চালু হতে পারছে না। এলজিইডির উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, সেতুর ঢাল নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় ৩৪ ফুট খাসজমি রয়েছে। কিন্তু জমির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের বিরোধের কারণে কাজ আটকে আছে।
সেতু নির্মাণের সময় জমির মালিকানা যাচাই করে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে উত্তর ধামুরা অংশে দুই শতক জমির মালিকানা দাবি করে আবদুর রব হাওলাদার। তিনি বলেন, এসএ খতিয়ান অনুযায়ী জমির মালিক তিনি। তিনি জমি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন এবং আদালতে মামলা করেছেন।
সেতু চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেতুর পূর্ব প্রান্তে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পথচারীরা চলাচল করছেন। পশ্চিম প্রান্তে বালু ফেলে রাখা হয়েছে এবং সেতুতে ইট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনে বড় বাধা পড়ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল জানান, বর্তমান বিএস জরিপে জমি সড়কের নামে রেকর্ড রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
"সেতু চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে সাধারণ মানুষের।" — সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উজিরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর ধামুরা খাল, উজিরপুর উপজেলা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সান্টু মোল্লা (শোলক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য), সুব্রত রায় (উপজেলা প্রকৌশলী), আবদুর রব হাওলাদার (জমি মালিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ কোটি টাকা (সেতু নির্মাণ খরচ), ৪৪ মিটার (সেতুর দৈর্ঘ্য), ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা (চুক্তিমূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!