📌 চট্টগ্রামের চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজকে বিদেশি সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে, তাদের মধ্যে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগীও রয়েছেন
চট্টগ্রামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজকে সন্ত্রাসীর পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকির ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগীও রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজকে বিদেশি সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 হুমকির ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় ডায়েরি করা হয়, যেখানে ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০:৫৪ মিনিটে বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়।
- 📌 পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে কামরুল হাসান (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম (২০) ও অন্যান্য।
- 📌 আটক ব্যক্তিরা কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
- 📌 হুমকিতে বলা হয়, ‘১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব’।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ইউনিয়নের চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের সিরিয়াল লেখার জন্য তার মুঠোফোন নম্বর থেকে ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০:৫৪ মিনিটে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে কথা বলতে চাইলে তার সহকারী হ্যাপি বড়ুয়া মুঠোফোনটি পারভেজকে দেন। ফোনে নিজেকে বড় সাজ্জাদ বলে পরিচয় দেন ওই ব্যক্তি। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, নইলে চেম্বারে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।
এরপরও হুমকি অব্যাহত থাকে। বড় সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে হুমকি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা ও অডিও পাঠানো হয়। হুমকিতে বলা হয়, ‘টাকা না পাঠালে অনেক বড় বিপদ হবে। তোমার গাড়ির নম্বরও আমাদের কাছে আছে। ১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব। রোগী সেজে তোমাকে মেরে ফেলা হবে’।
নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্বিগুণ চাঁদা দাবি করা হয়। হুমকিতে বলা হয়, ‘আমি রায়হান, তুমি চিনো না। বেয়াদবি করতেছ। ১০ লাখ টাকার বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে’।
পুলিশের অভিযানে সাতজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কামরুল হাসান (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম (২০), আহমদুল্লাহ (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ‘আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাঁরা চিকিৎসক পারভেজকেও হুমকি দিয়েছেন’।
চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা চাওয়ার পর থেকে আমি আতঙ্কে ছিলাম। পুলিশ আটক করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি, কিন্তু সন্ত্রাসীদের মূল নির্দেশদাতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে’।
"আমি রায়হান, তুমি চিনো না। বেয়াদবি করতেছ। ১০ লাখ টাকার বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের হাটহাজারী ইউনিয়ন ও দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ, সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ, মো. রায়হান, ডেভিড ইমন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ লাখ টাকা (চাঁদা), ১০০ জন পুলিশ, ২৪ ঘণ্টা, ২ সেপ্টেম্বর, ৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!