📌 পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। উত্তরাঞ্চলের কয়েক লক্ষ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করাই এর লক্ষ্য
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। তিনি উত্তরাঞ্চলের কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিমন্ত্রীর
- 📌 নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা দূরীকরণের প্রত্যয়
- 📌 বিরোধীদলের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সারের সংকট তৈরির অভিযোগ
- 📌 ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ৫টি ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে প্রথম তিনটিতে যারা পড়বেন তাদের অন্তর্ভুক্তি
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা
📰 বিস্তারিত
বুধবার বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। যার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশা লাঘব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকার মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও হাঁস চাষ করতে পারবেন। ফলে স্থানীয় জনগণ স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, "আমাদের এই এলাকার মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষি কাজ করতে পারেন, মাছ চাষ করতে পারেন, হাঁস চাষ করতে পারেন, সেইভাবে আমরা এই এলাকাগুলোর মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলব।"
সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বিরোধীদলকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির আমলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া কোনো ডিলারকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের দ্বিতীয় পরিপত্র দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয় পরিপত্রের সময় বাড়িয়ে প্রতি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে জনগণ সহজেই সার পাচ্ছেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিভিন্ন কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "৫টি ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে প্রথম ৩টিতে যারা পড়বেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।"
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে সরকার গঠন করতে পারলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এক সময়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট খুঁড়লেই টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন অনেক জায়গায় ২০০ ফুট খুঁড়েও পানি পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর অনেকগুলোই এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই। কুড়িগ্রামে দেশের সবচেয়ে বেশি ৫৪টি নদী এবং পঞ্চগড়ে ৫০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের বেশ কয়েকটি নদী এখন আর জীবন্ত নেই। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ, স্লুইসগেট ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
"আজকে যারা আপনাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমাদের ভোট জোর নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, বলতে চাই সেই সময় তাদের আমির বলেছিলেন যে, কিসের ফ্যামিলি কার্ড, আজকে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে আমাদের ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে সেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারীর ডোমার উপজেলা, চিলাহাটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪টি অভিন্ন নদী, ১০টি উপজেলা, ১৪টি ইউনিয়ন, ৫টি ক্রাইটেরিয়া, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!