📌 টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন তিনতলা ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দুই পুকুরের মাঝখানে নির্মিত ভবনটির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবন নির্মাণের সময় তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুই পাশে গভীর পুকুরের মাঝখানে নির্মিত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন তিনতলা ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ
- 📌 দুই পুকুরের মাঝখানে নির্মিত ভবনটির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা
- 📌 বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম খাতুন জানান, ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে
- 📌 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান জানান, তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুই পাশে গভীর পুকুরের মাঝখানে নির্মিত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ২০২৩ সালে সেখানে নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যালয়ের জায়গার ব্যবহার ও ভবনের অবস্থান নিয়ে তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, পুরোনো ভবনটি সরিয়ে উত্তর-দক্ষিণে, পূর্বমুখী করে ভবন নির্মাণ করা হলে ভবনটি তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে থাকত এবং বিদ্যালয়ের একটি খেলার মাঠের সুযোগও তৈরি হতো। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ সম্পর্কে তাঁরা তথ্য দেননি। দুই পাশে পুকুর থাকায় বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই।
অভিযোগ রয়েছে, অদৃশ্য চাপের কারণে তড়িঘড়ি করে পূর্ব-পশ্চিমে দক্ষিণমুখী করে দুই পুকুরের মাঝখানে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গত তিন বছরের দক্ষিণ পাশের মাটি পুকুরের দিকে সরে গিয়ে ভবনের নিচের প্রধান সিঁড়ি, পিলার, র্যাম্পসহ ওপরের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের আগে পুকুরের দুই পাশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলে এতটা ঝুঁকি থাকত না বলেও দাবি তাঁদের।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘দুই পুকুরের মাঝখানে হওয়ায় ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন। চরশিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য বর্তমানে তাঁর কাছে নেই। ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ও নির্মাণকাল সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
বিদ্যালয়টির ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, ভবনে বড় বড় ফাটল থাকলেও এতে আপাতত কোনো ঝুঁকি তিনি দেখছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‘দুই পুকুরের মাঝখানে হওয়ায় ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ — মরিয়ম খাতুন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোপালপুর, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মরিয়ম খাতুন, শফিকুল ইসলাম খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!