📌 সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নে আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে ‘তৌহিদি জনতা’ নামে পরিচিত এক দল। স্থানীয় প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নে আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে ‘তৌহিদি জনতা’ নামে পরিচিত এক দল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়ে আসছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘তৌহিদি জনতা’ ব্যানারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবাইচ বন্ধের প্রচারণা শুরু হয়েছে
- 📌 স্থানীয় বারইগ্রাম বাজার মসজিদে বৃহস্পতিবার এক সভায় প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানানো হয়
- 📌 নৌকাবাইচের কারণে নদীর পাড় ও আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে
- 📌 স্থানীয় চেয়ারম্যান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন
- 📌 আগামী ২৮ আগস্ট সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা
📰 বিস্তারিত
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে ‘তৌহিদি জনতা’ নামে পরিচিত এক দল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়ে আসছে।
প্রতিযোগিতাটি আগামী ২৮ আগস্ট সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে নৌকা নাম নিবন্ধন করতে হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি গরু এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ছাগল দেওয়া হবে।
তবে ‘তৌহিদি জনতা’ নামে পরিচিত এক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, নৌকাবাইচের নামে জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এছাড়া নদী ভাঙন ও যানজটের কারণ হিসেবেও তারা প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করছে।
"নৌকা বাইচের কারণে নদীর পাড়, আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় বছরই মারামারি হয়। গত বছরও মারামারির কারণে বাইচ হয়নি। সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে এক পক্ষ চাচ্ছে নৌকাবাইচ বন্ধ হোক। তবে আরেক পক্ষ চাচ্ছে বাইচ হোক। বিষয়টা লোকাল একটা ইস্যু। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে অনুমতি নিয়েই আয়োজকদের নৌকাবাইচ করতে হবে।"
স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "ইউএনও মহোদয় দুই পক্ষকে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পাঁচটায় তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেছেন। উভয় পক্ষের খোঁজ নিচ্ছি। নিশ্চয়ই আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান হবে।"
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, বিষয়টি অতিরঞ্জিত নয় এবং এটি ঐতিহ্যগত আয়োজন। তিনি বলেন, "এটা বড় কোনো বিষয় নয়। এখানে ঐতিহ্যগতভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক ‘হুজুর’ এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, গ্রামীণ এ আয়োজনে প্রায়ই মারামারি হয়। তাই এ বাইচ না হওয়ার দাবি তিনি করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লাউতা ইউনিয়ন, বিয়ানীবাজার, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. দেলওয়ার হোসেন (চেয়ারম্যান), উম্মে হাবিবা মজুমদার (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ (আগস্ট), ১২ (টার), ১৫-২০ (বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!