📌 সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে ঘোষণা করেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি হবে। তিনি প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের আহ্বান জানান
বাংলাদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি হবে। এ সময়ে তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও প্রবীণদের নিজস্ব ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি হবে — বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি প্রবীণ নাগরিক রয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৪ দশমিক ৯ বছরের গড় আয়ু রয়েছে।
- 📌 প্রবীণদের মর্যাদা ও কল্যাণে সরকারের নতুন উদ্যোগ — সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান ভাতা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, তাই তা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
- 📌 প্রবীণ নারীদের জন্য বিশেষ দাবি — প্রবীণ নারীদের মোট সম্পদের মাত্র ৭ শতাংশের মালিক হওয়ায় তাদের দীর্ঘ জীবন কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
- 📌 প্রবীণ অধিদফতর গঠনের দাবি — প্রবীণদের জন্য বিশেষ অধিদফতর গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধির দাবি — প্রবীণদের জন্য বান্ধব হাসপাতাল, কর্মসংস্থান ও আয়-সঞ্চয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক। এ সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি বা পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে। সেই সঙ্গে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির ফলে এখনকার ৭৪ দশমিক ৯ বছর থেকে তা ৮০ বছর বা এর কাছাকাছি পৌঁছাবে।’ তিনি বলেন, ‘এত বেশিসংখ্যক দীর্ঘ ও দীর্ঘায়ু জীবনকে কেবল সংখ্যা বা বয়স বৃদ্ধির পর্যায় হিসেবে না দেখে, বয়স্কদের স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তরে পরিবর্তন করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। মন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশের সঙ্গে এখন সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তেও কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এ লক্ষ্যে জীবনচক্রভিত্তিক অর্থাৎ, নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও দীর্ঘ জীবন লাভকারী নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক, মানবিক সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবীণদের জন্য প্রবীণ বান্ধব হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা, মেট্রোরেল-ট্রেন, গণপরিবহন ও বিমানবন্দর, আয়-সঞ্চয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কর্মক্ষমতাহীনদের জন্য সামাজিক সহায়তা বাড়ানো এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণে যাবতীয় আইন, বিধি-বিধান ও কর্মকৌশল প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষত, প্রবীণ নারীদের জন্য নতুন শিখন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও খাদ্য ব্যবস্থার বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নাগরিকেরা এই সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাধীন-স্বনির্ভর, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ দীর্ঘ জীবন লাভে নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নানা সুপারিশ তুলে ধরেন।
"দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক। এ সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি বা পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে। সেই সঙ্গে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির ফলে এখনকার ৭৪ দশমিক ৯ বছর থেকে তা ৮০ বছর বা এর কাছাকাছি পৌঁছাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৬০ লাখ (বর্তমান প্রবীণ), ৫ কোটি (২০৫০ সালের পূর্বাভাস), ৭৪.৯ বছর (বর্তমান গড় আয়ু), ৮০ বছর (২০৫০ সালের পূর্বাভাস), ৭ শতাংশ (প্রবীণ নারীদের মালিকানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!