📌 সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় মাছ ও জলজ প্রাণীরা। বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও থামছে না এসব অপরাধের ঘটনা
সুন্দরবনের নদী ও খালগুলোতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা এবং শুঁটকি তৈরির প্রবণতা মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্যকে। সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিষ দিয়ে ধরা মাছ, কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক জব্দ করেছে বন বিভাগ। তবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে
- 📌 বিষ প্রয়োগের ফলে স্থানীয় মাছের প্রজাতি যেমন সিলন টেংরা, চিত্রা, রিঠা, কাইন মাগুর বিপন্ন হয়ে পড়েছে
- 📌 সুন্দরবনের গভীরে টংঘর ও মাচা তৈরি করে বিষ দিয়ে ধরা ছোট চিংড়ি দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে
- 📌 বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও থামছে না এসব অপরাধের ঘটনা
- 📌 স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা জেলেদের বিষ দিয়ে মাছ ধরতে উৎসাহিত করছেন
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবনের ভেতরে ও আশপাশের নদীগুলোতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, জোয়ারের শুরুতে ছোট খালের মুখে কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক ঢেলে দেওয়া হয়। বিষ পানিতে মিশে স্রোতের সঙ্গে খালের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ দুর্বল হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষ প্রয়োগের ফলে একবার কোনো খালে বিষ প্রয়োগ করা হলে দীর্ঘ সময় সেখানে মাছের উপস্থিতি কমে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা এক জেলে বলেন, ‘মাছ কমে যাওয়ায় অনেকে অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার জন্য বিষ ব্যবহার করছে।’
স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী জেলেদের বিষ দিয়ে মাছ ধরতে উৎসাহিত করেন। এমনকি তাঁরাই জেলেদের কাছে কীটনাশক এবং বিষাক্ত রাসায়নিক সরবরাহ করেন। স্থানীয় বাজারের কিছু দোকানেও গোপনে এসব রাসায়নিক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
শুধু মাছ শিকারেই থেমে নেই অসাধু জেলে চক্র। সুন্দরবনের গভীরে টংঘর ও মাচা তৈরি করে আগুন জ্বালিয়ে বিষ দিয়ে ধরা ছোট চিংড়ি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শুঁটকি। অভিযানে এসব টংঘরও ধ্বংস করা হয়, শুঁটকিও ধ্বংস করা হয়; তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তারেক আরাফাত বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা শুধু একটি অবৈধ পদ্ধতি নয়, এটি পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের ডিম, রেণু, পোনা, চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী এবং ক্ষুদ্র জীব ধ্বংস হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, ড. শেখ তারেক আরাফাত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ (গ্রাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!