📌 শ্রীমঙ্গলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ৯০ বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার আয়তন স্থির রয়েছে। ফলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সম্প্রসারণের প্রস্তাব এলেও তা অনুমোদন হয়নি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা দুই দিকেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেলেও পৌরসভার আয়তন দীর্ঘ ৯০ বছরের বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে শহরের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পৌরসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন ১৯৩৫ সাল থেকে স্থির রয়েছে মাত্র ২.৫৮ বর্গ কিলোমিটার
- 📌 প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে পৌরসভায় জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার, বর্তমানে তা প্রায় ৪০ হাজারে উন্নীত
- 📌 শহরের বিস্তৃত অংশ ইউনিয়নের অধীন থাকায় পৌরসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি
- 📌 সম্প্রসারণের প্রস্তাব এলেও ১৯৮১, ১৯৯৬, ২০০১ ও সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা অনুমোদন হয়নি
- 📌 প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ অনুমোদিত হলে আয়তন বেড়ে হবে ৯.৫২ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখে দাঁড়াবে
📰 বিস্তারিত
শ্রীমঙ্গল শহরের জনসংখ্যা ও আয়তন দুই দিকেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেলেও পৌরসভার আয়তন দীর্ঘ ৯০ বছরের বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন মাত্র ২.৫৮ বর্গ কিলোমিটার। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে পৌরসভায় জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার। বর্তমানে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে উন্নীত হলেও পৌরসভার আয়তন একই রয়েছে। ফলে শহরের বিস্তৃত অংশ ইউনিয়নের অধীন থাকায় পৌরসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার আয়তন সম্প্রসারণের জন্য শ্রীমঙ্গল সদর, কালীঘাট ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজা ও গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও আয়তন সম্প্রসারণ সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন করে পৌর সীমানা সম্প্রসারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ অনুমোদিত হলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন ২.৫৮ থেকে বেড়ে ৯.৫২ বর্গ কিলোমিটার হবে। জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখে উন্নীত হবে এবং ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১২ থেকে ১৪টি হতে পারে। বর্তমানে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি রয়েছে। পৌরসভার বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পৌর এলাকায় প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৬৭৫টি স্ট্রিট লাইট এবং ২ হাজার ৩০০টি পানির লাইন রয়েছে।
রূপসপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির আহমেদ বলেন, ‘শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও আমাদের এলাকা প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়নের অধীন থাকায় উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। দ্রুত পৌরসভা সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।’ শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াশ দাশ বলেন, ‘সবুজবাগ এলাকা শহরের অংশ হলেও ইউনিয়নের অধীন থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বরাদ্দ পাওয়া যায়। পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন হবে এবং মানুষ প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাবে।’
"শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারণ করতে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরকার বরাবর পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ে সেটি অনুমোদন পাবে।" — শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জিয়াউর রহমান (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আয়তন ২.৫৮ → ৯.৫২ বর্গ কিমি, জনসংখ্যা ৪০ হাজার → প্রায় ১ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!