📌 শরৎকালে ত্বকের আর্দ্রতা হারানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সময়ে ত্বকের যত্নে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। সঠিক ক্লিনজার, ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
শরৎকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে আসে পরিবর্তন। তবে এই ঋতুতে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় আবহাওয়ার শুষ্কতা। কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা জানান, শরতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা স্তর ব্যাহত হয়। এর ফলে ত্বকে টান ধরা, খসখসে হওয়া ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শরৎকালে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা স্তর ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হলো বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া
- 📌 শোভন সাহা জানান, ট্রান্সএপিডারমাল ওয়াটার লসের ফলে ত্বক দ্রুত পানি হারায়
- 📌 বর্ষাকালের ফোমিং ফেসওয়াশ শরতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি শুষে নেয়
- 📌 শরতে ক্রিম-বেসড বা অয়েল-বেসড ভারী ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
- 📌 অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে সপ্তাহে এক দিনের বেশি মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
- 📌 শরতের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজিং সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
- 📌 শরতে দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি
📰 বিস্তারিত
বর্ষা বিদায় নিয়ে শরৎ আসার পর প্রকৃতিতে আসে পরিবর্তন। তবে এই সময়ে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় আবহাওয়ার শুষ্কতা। কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা বলেন, শরতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা স্তর ব্যাহত হয়। এর ফলে ত্বক থেকে অতিদ্রুত পানি শুষে নেওয়া শুরু হয়, যাকে ট্রান্সএপিডারমাল ওয়াটার লস বলা হয়। সঠিক যত্ন না নিলে এই শুষ্কতা থেকে ত্বকে বলিরেখা ও লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
শরতে শুষ্ক ত্বকের যত্নে পরিবর্তন আনতে হবে। বর্ষাকালে ব্যবহৃত ফোমিং ফেসওয়াশগুলো শরতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি শুষে নেয়। শোভন সাহা জানান, এই সময়ে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা অতিরিক্ত ফোমিং ক্লিনজার বাদ দিয়ে হাইড্রক্সিল অ্যাসিডমুক্ত, অ্যালকোহলমুক্ত এবং ফেনা তৈরি করে না—এমন ক্রিম-বেসড কিংবা হাইড্রেটিং ক্লিনজার বেছে নেওয়া উচিত। এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।
শরতের স্কিন কেয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার। হালকা লোশন কিংবা ওয়াটার-বেসড জেল ময়শ্চারাইজারের বদলে এই সময়ে ক্রিম-বেসড বা অয়েল-বেসড ভারী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, সিরামাইডস, গ্লিসারিন এবং শিয়া বাটারযুক্ত ময়শ্চরাইজার বেছে নিন। এগুলো ত্বকের গভীরে গিয়ে পানি আটকে রাখাসহ দীর্ঘক্ষণ ত্বক নরম রাখে।
শুষ্ক ত্বকের মরা চামড়া তুলতে অনেকে ঘন ঘন স্ক্রাব ব্যবহার করেন, যা শরতের আবহাওয়ায় ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের বাইরের প্রতিরক্ষামূলক স্তর ভেঙে ফেলে। তাই সপ্তাহে এক দিনের বেশি এএইচএ কিংবা ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার না করা ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে স্কিন কেয়ার রুটিনে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সেরাম এবং জোজোবা, আরগান বা আমন্ড অয়েলের মতো প্রাকৃতিক ফেস অয়েলের কয়েক ফোঁটা যোগ করতে পারেন।
অনেকে ভাবেন, শরতের মেঘলা আকাশ বা হালকা রোদে সানস্ক্রিনের কোনো প্রয়োজন নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। শরতের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শুষ্ক ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলিরেখাযুক্ত করে তুলতে পারে। সে কারণে বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজিং সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করা দরকার।
শুধু বাহ্যিক যত্ন যথেষ্ট নয়। এ সময় ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। শরতে পানি পানের পরিমাণ কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ও মৌসুমি ফল রাখুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল এড়িয়ে চলুন। কারণ, গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে।
‘ময়শ্চারাইজার লাগানোর পর ফেস অয়েল ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতাকে ত্বকের ভেতরে লক করে দেয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শোভন সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০, ৮, ১০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!