📌 মেট্রোরেলে ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৪ বছর বয়সী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজীবুর রহমান অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে মারা যান। ছেলে নাকিবুর রহমান দাবি করেন, বসার আসন ছাড়লে বাবা বেঁচে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরব ও নিউজিল্যান্ডে থাকায় শেষবিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না
মেট্রোরেলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে মারা যান ঢাকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজীবুর রহমান (৬৪)। ছেলে নাকিবুর রহমানের দাবি, বসার আসন ছাড়লে বাবা বেঁচে থাকতেন। ২৪ অক্টোবর বিকেলে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরে যাত্রা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর নাকিবুরের আক্ষেপই বর্তমানে তাঁর জীবনের একমাত্র আক্ষেপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক নজীবুর রহমান মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে মারা যান। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।
- 📌 ২৪ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরে যাত্রা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
- 📌 বসার আসন ছাড়ার অনুরোধ করলেও কেউ সাড়া দেননি। এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মেঝেতে পড়ে যান তিনি।
- 📌 মৃত্যুকালে পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না। মা ও ছোট ভাই সৌদি আরবে, বোন ও আরেক ভাই নিউজিল্যান্ডে ছিলেন।
- 📌 নাকিবুর রহমান জানান, ‘আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন’।
📰 বিস্তারিত
২৪ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর নজীবুর রহমান শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরে যাত্রা শুরু করেন। মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে বসার আসন না পেয়ে তিনি ও একজন সহযোগী শিক্ষক ভেতরের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছার সময় ঠেলাঠেলির মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাবাকে বসার সুযোগ চেয়েছিলেন নাকিবুর রহমান, কিন্তু সিটে বসে থাকা যাত্রীদের কেউ সাড়া দেননি। এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পাশের যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করলেও বেঁচে থাকেননি।
মৃত্যুকালে পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না। নাকিবুর রহমানের মা ও ছোট ভাই ওমরাহ সৌদি আরবে ছিলেন। সৌদি আরবের বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় তারা সময়মতো দেশে ফিরতে পারেননি। বোন ও আরেক ভাই নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরিবারের এই সদস্যদের ছাড়াই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে নজীবুর রহমানকে দাফন করা হয়।
নাকিবুর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য। তিনি জানান, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন।’
"আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন। তাহলে হয়তো বাবা এভাবে নিচে না পড়ে, কারও কোলে মাথা রেখে মারা যেতে পারতেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (শাহবাগ, উত্তরা, শেওড়াপাড়া), বরিশাল (গৌরনদী উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজীবুর রহমান (৬৪, আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক), নাকিবুর রহমান (ছেলে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ বছর বয়স, ২৪ অক্টোবর, ৯৯৯ (জরুরি সেবা নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!